দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর দেশের বাইরে অবস্থানের পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনে অবস্থানরত অবস্থায় মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সামনে আসা নির্বাচন সহজ হবে না এবং আগামী মাসগুলোতে দেশ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
তারেক রহমান বলেন, তিনি দেশে ফিরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান এবং এ জন্য সবার দোয়া কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁর সমর্থকদের অনুরোধ জানান, ২৫ ডিসেম্বর লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় বা অভ্যর্থনা জানাতে না যাওয়ার জন্য।
বক্তব্যে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। এতে পরিবার, কৃষক এবং বেকার তরুণদের জন্য বিশেষ কল্যাণমূলক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাঁর ভাষায়, আসন্ন নির্বাচন কোনো পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নয়; বরং এটি পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যা সততার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার দাবি সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরালো হয়েছে, বিশেষ করে তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রেক্ষাপটে। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও উঠে আসে এই প্রেক্ষাপটে। ১৯৯০ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথভাবে তিনি স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, যার ফলে সে বছর এরশাদের পতন ঘটে। পরে ১৯৯১ সালে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা হারালেও ২০০১ সালে আবার ক্ষমতায় ফিরে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকার পরিচালনা করেন।
২০০৭-০৮ সালে সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন এবং সে সময় কারাবন্দি অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে আদালত থেকে জামিন পেয়ে ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান এবং সেখানেই দীর্ঘদিন অবস্থান করেন।
দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
















