বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর ঘটনা বাড়ছে। এরই অংশ হিসেবে ভারতের এক কৌতুকভিত্তিক ভিডিওকে বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীর ওপর হামলা ও ধর্ষণের ঘটনা হিসেবে ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে।
ডিসেম্বরের শুরুতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী রাস্তার পাশে পড়ে আছেন। তাঁর পাশে একটি পানির বোতল ও এক জোড়া স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত বাংলা ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ঢাকার বনানী এলাকায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেত্রীকে তিন যুবক ধর্ষণ করে ফেলে রেখে গেছে।
ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত কণ্ঠে আরও বলা হয়, দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে নির্যাতন করে রাস্তার পাশে ফেলে যায়। এ দাবির ভিত্তিতে ভিডিওটি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দিনের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ এটি দেখেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে উত্তপ্ত। আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজধানীতে বোমা বিস্ফোরণ, রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটায় অনলাইন বিভ্রান্তির সুযোগ আরও বেড়েছে।
তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক সহিংসতার সম্পর্ক নেই। গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে পাওয়া যায়, ভিডিওটি ডিসেম্বরের শুরুতে ‘নাপাতি হাজোয়ারি’ নামের একটি ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছিল। ওই চ্যানেলটি মূলত কৌতুকমূলক ভিডিও প্রকাশ করে এবং সেখানে একই নারীকে বিভিন্ন ভিডিওতে অভিনয় করতে দেখা যায়।
মূল ভিডিওতে এক পুরুষ কণ্ঠে বোডো ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়, যা ভারতের আসাম রাজ্যের একটি স্বীকৃত ভাষা। কণ্ঠে ওই নারীকে মাতাল কি না জিজ্ঞেস করা হয় এবং কেন এত বেশি মদ্যপান করেছেন, সে প্রশ্নও করা হয়। ভিডিওটি পরে একই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করা হয়, যেখানে তিনি নিজেকে একজন কৌতুক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
এএফপি জানায়, তারা ভিডিওটির নির্মাতা ও ঢাকার পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তাই অনলাইনে ছড়ানো ভিডিও ও দাবির সত্যতা যাচাই না করে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
















