বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু ভোটের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
মহান বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচন ও গণভোটকে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশ কোন পথে এগোবে, কোন ধরনের রাষ্ট্র গড়ে উঠবে—তা নির্ধারিত হবে। এই প্রক্রিয়াকে তিনি নতুন বাংলাদেশের চরিত্র, কাঠামো ও অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশক হিসেবে আখ্যা দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার চায় আসন্ন নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ এবং সর্বোপরি সুষ্ঠু হোক। এ লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোট শুধু ব্যালট বাক্সে একটি সিল নয়; বরং এটি নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার প্রতিফলন। দেশের মালিকানা জনগণের হাতে—আর সেই মালিকানার স্বাক্ষর হলো ভোট।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু শত্রু হিসেবে নয়। একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব, যাতে জনগণের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হয়।
ভোট বাক্স ডাকাতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা ভোট ছিনতাই করে তারা মূলত মানুষের স্বাধীনতা হরণ করে এবং তারা জনগণের শত্রু। নাগরিকদের উচিত নিজেদের ভোট সুরক্ষিত রাখা এবং কোনো বাধা এলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়া।
যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোটের ওপরই নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ ও আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তা। ভোট রক্ষা করা মানেই দেশ রক্ষা করা—এই দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে।
ভাষণে তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে কিছু রদবদল করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন কোনো পক্ষপাতের কারণে নয়, বরং দক্ষতা, যোগ্যতা ও পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতে করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা ভয়মুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন।
















