ডিম নিয়ে প্রচলিত ভয় কতটা সত্য, কতটা ভুল—জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
প্রতিদিন ডিম খেলে কি কোলেস্টেরল বাড়ে? বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিমাণে ডিম খাওয়া হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর নয়। জেনে নিন কারা সতর্ক থাকবেন।
ডিমকে বলা হয় প্রোটিনের সবচেয়ে সহজলভ্য ও পুষ্টিকর উৎস। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে ডায়েট চার্ট—সবখানেই ডিমের উপস্থিতি চোখে পড়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে—প্রতিদিন ডিম খেলে কি কোলেস্টেরল বাড়ে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার মধ্যে বাস্তবতা থাকলেও তা সম্পূর্ণ নয়।
ডিমে কোলেস্টেরল কতটা থাকে
একটি মাঝারি আকারের ডিমের কুসুমে প্রায় ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। তবে এটি মূলত ডায়েটারি কোলেস্টেরল, যা সরাসরি রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়—এমন প্রমাণ শক্ত নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের মাধ্যমে নেওয়া কোলেস্টেরলের চেয়ে শরীর নিজেই বেশি কোলেস্টেরল তৈরি করে।
কারা সতর্ক থাকবেন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
- যাদের আগে থেকেই উচ্চ কোলেস্টেরল,
- ডায়াবেটিস,
- বা হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে—
তাদের প্রতিদিন ডিমের কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রে সংযমী হওয়া উচিত।
তবে ডিমের সাদা অংশে কোনো কোলেস্টেরল নেই, তাই এটি প্রায় সবাই নিরাপদে খেতে পারেন।
ডিম খাওয়ার স্বাস্থ্যসম্মত নিয়ম
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—
- প্রতিদিন ১টি, সর্বোচ্চ ২টি ডিম খাওয়া নিরাপদ
- ভাজা ডিমের বদলে সিদ্ধ বা পোচড ডিম ভালো
- কুসুমসহ ডিম সপ্তাহে ৩–৪ দিন খাওয়া আদর্শ
- সঙ্গে শাকসবজি, ফল ও পর্যাপ্ত পানি রাখলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে
বিশেষজ্ঞের মতামত
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়,
“ডিমে থাকা কোলেস্টেরল অনেক ক্ষেত্রে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।”
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতিদিন একটি ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে—এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ডিম খেলে এটি পুষ্টি জোগায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে।
ভয় নয়, বরং সচেতনতা ও পরিমিতিই ডিম খাওয়ার মূল চাবিকাঠি।
















