নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যেই হাদির ওপর হামলা, ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান ইউনূসের
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে গভীর ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রশিক্ষিত শুটার নামানো হয়েছে। নির্বাচন রক্ষায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট—ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে এবং প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে। উদ্দেশ্য একটাই—আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ভেস্তে দেওয়া।
শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের সামনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলই ঘটনাটিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত হিসেবে দেখছে এবং এ অপচেষ্টা রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “এই হামলাটি খুবই সিম্বলিক। তারা শক্তি প্রদর্শন করতে চায় এবং নির্বাচন না হওয়ার বার্তা দিতে চায়। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে, সেটিই ষড়যন্ত্রকারীদের সবচেয়ে বড় সুযোগ।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু কাউকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা বা আক্রমণাত্মক সংস্কৃতিতে জড়ানো থেকে সরে আসতে হবে। নির্বাচনকালীন উত্তেজনা যেন একটি নিয়ন্ত্রিত মাত্রার মধ্যে থাকে—সে বিষয়েও দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি শুরু হলেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েছে—ইতিহাস তার প্রমাণ। তিনি দলগুলোকে কেবল দলীয় নয়, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যেকোনো মূল্যে জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। এজন্য পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান চালানোর দাবি জানান।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলগুলোর একে অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতায় বিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে। ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে বিভক্তি নয়, বরং আগের মতো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই এখন জরুরি।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে খাটো করার জন্য সুসংগঠিত ক্যাম্পেইন চলছে। মিডিয়া, প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে অভ্যুত্থানকারীদের অপরাধী হিসেবে দেখানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে ‘নরমালাইজ’ করার প্রচেষ্টা চলছে এবং এটি ভবিষ্যৎ যে কোনো সরকারের জন্যই বিপজ্জনক হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলেন, নিজেদের মধ্যে অনৈক্য থাকলে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই কার্যকর হবে না। রাজনৈতিক বিভাজনের সুযোগ নিয়েই ষড়যন্ত্রকারীরা সহিংসতা বাড়াচ্ছে।
বৈঠক শেষে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একমত হন যে, নির্বাচন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষায় এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ঐক্য, সংযম ও সমন্বিত প্রতিরোধ।
















