চীন থেকে ইরানের উদ্দেশে যাত্রারত একটি কার্গো জাহাজে গত মাসে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামুদ্রিক পথে আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক কৌশলের সর্বশেষ উদাহরণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে শ্রীলঙ্কা উপকূল থেকে কয়েকশ মাইল দূরে মার্কিন সেনারা জাহাজটিতে উঠে তল্লাশি চালান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে চীন থেকে ইরানগামী কোনো কার্গো জাহাজে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম এমন অভিযান।
ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে। একজন কর্মকর্তা জানান, জাহাজ থেকে এমন কিছু সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে, যা ইরানের প্রচলিত অস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। তবে তিনি বলেন, এসব সামগ্রী দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য, অর্থাৎ বেসামরিক ও সামরিক—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার সম্ভব। অভিযান শেষে জাহাজটিকে যাত্রা চালিয়ে যেতে দেওয়া হয়।
এই ঘটনা ঘটে ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করার কয়েক সপ্তাহ আগে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এমন ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে নেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ দেয়নি। অন্যদিকে, ইরান ও চীনও এই প্রতিবেদন নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বেইজিং, যা তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার, বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলে দাবি করে আসছে।
এর আগে ভেনেজুয়েলার উপকূলে তেলবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, একতরফা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিহীন নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘহাতের বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরোধিতা করে চীন।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার আশপাশে ভবিষ্যতে আরও জাহাজ জব্দের সম্ভাবনা নাকচ করছে না ট্রাম্প প্রশাসন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ইরান ও ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
















