ঐতিহাসিক জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনী প্রক্রিয়ায় প্রধান বিরোধী দল কোনো প্রকার ইতিবাচক সহযোগিতা করছে না বলে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জুলাইয়ের অবিনাশী চেতনাকে সর্বান্তকরণে ধারণ করতে না পারলে আমাদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পুরোপুরি অপূর্ণ থেকে যাবে। আর জুলাই সনদকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে গেলে আইনি কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি জরুরি সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া—দুটোই অত্যন্ত অপরিহার্য। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।”
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে অসন্তোষ ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিরোধী দল এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারকে সামান্যতম সহযোগিতাও করছে না। অথচ তারা পুরো বিষয়টি সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধান সংস্কারের একটি বৈপ্লবিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করতে পারত। বিরোধীদলীয় নেতা ইতঃপূর্বে ঘোষণা দিয়েছেন যে তাঁরা সরকারকে সাহায্য করবেন না। তবে আমাদের আকুল আহ্বান—তাাঁরা যেন অন্তত দেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা ভেবে হলেও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।”
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ওসমানী উদ্যানে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের’ শুভ ও বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক এই স্মারকের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই জুলাই স্মৃতিফলক উন্মোচন পুরো জাতির জন্য এক অবিরাম অনুপ্রেরণার উৎস। বহুল আলোচিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান হুট করে কোনো একক দিনে সংগঠিত হয়নি। এর নেপথ্যে ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমাদের সুদীর্ঘ ও ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে হয়েছে। তাই জাতীয় জীবনে এই স্মরণীয় অধ্যায়টি যেন চিরকাল জাগরুক থাকে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে। আগামী দিনে আমাদের জাতীয় নাটক, সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতিতেও জুলাইয়ের এই বীরত্বগাথার যথাযথ প্রতিফলন থাকতে হবে।”
সালাহ উদ্দিন আহমদ আরও জোরালো ভাষায় ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন/সংস্কারমুখী সরকার জুলাইয়ের প্রকৃত চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সেই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, কারণ তিনি বিগত জুলাই আন্দোলনে রাজপথে সরাসরি নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। ফলে কোনো ফাঁকা বুলি নয়, বরং বাস্তবমুখী কাজের মাধ্যমেই বর্তমান সরকার নিজেদের সেই অঙ্গীকার সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণ করবে।






















