বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তিনি ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণ তাকে গভীরভাবে অপমানিত করেছে, আর সেই বেদনা থেকেই তার এই সিদ্ধান্তের জন্ম।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, কিন্তু পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। কার্যনির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। কিন্তু ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণআন্দোলনে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে, বিলুপ্ত সংসদের পর রাষ্ট্রপতিই হয়ে ওঠেন শেষ অবশিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ। সেই কঠিন সময় থেকেই তার অবস্থান নতুন গুরুত্ব পায়।
৭৫ বছর বয়সী শাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু আজ, তার কণ্ঠে শোনা যায় ক্লান্তি, অভিমান আর অবমাননার দীর্ঘশ্বাস। তিনি বলেন, “আমি যেতে চাই। আমি বেরিয়ে যেতে আগ্রহী।” তবে নির্বাচনের আগে দায়িত্ব ছাড়তে চান না, কারণ তার ভাষায়, “সংবিধান আমাকে এখানে থাকতে বলেছে, তাই আছি।”
সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় সাত মাস ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রেস বিভাগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি গত সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি হঠাৎ করে সরিয়ে নেওয়া হয়—এক রাতের অন্ধকারে, এক সিদ্ধান্তে।
তার কণ্ঠে তখন কাঁপন ধরানো এক যন্ত্রণা—“রাষ্ট্রপতির ছবি সব দূতাবাসে ছিল, সব কনস্যুলেটে ছিল। হঠাৎ করে এক রাতে সব তুলে ফেলা হলো। এতে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়—মনে হয় রাষ্ট্রপতিকে যেন বিলুপ্ত করে দেওয়া হচ্ছে। আমি গভীরভাবে অপমানিত বোধ করেছি।”
তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি ইউনূসকে চিঠিও লিখেছেন, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
তার কথায় প্রকাশ পেয়েছে, দায়িত্ব পালনের পর্দার আড়ালে এক নিঃসঙ্গতা, এক আহত সম্মানবোধ, এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদেও মানুষের বেদনা কতটা গভীর হতে পারে—তারই নীরব প্রতিধ্বনি।
















