লাতিন আমেরিকার উত্তাল সমুদ্রপথে যখন নতুন করে ঝড় বইছে, তখনই ভেনেজুয়েলার প্রতি অবিচল সংহতির বার্তা দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মার্কিন বাহিনী যখন অনুমানভুক্ত নিষিদ্ধ তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে জব্দ করল, ঠিক তার পরদিনই দুই দেশের নেতার কথা হয় বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, পুতিন ভেনেজুয়েলার জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং নিকোলাস মাদুরো সরকারের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছেন। ভেনেজুয়েলা আরও জানায়, দুই নেতা তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে “কৌশলগত, দৃঢ় এবং ক্রমবর্ধমান” হিসেবে আবারও নিশ্চিত করেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং লাতিন আমেরিকায় শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ভেনেজুয়েলাকে সমর্থন অব্যাহত রাখবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন নেভি সিল বাহিনী ক্যারিবীয় সাগরে একটি নিষিদ্ধ ট্যাঙ্কার দখল করে। ক্যারাকাস একে আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা বলে আখ্যা দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, নিষিদ্ধ জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, কালোবাজারি তেলের অর্থ দিয়ে কোনো অবৈধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে শক্তিশালী হতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।
যদিও জব্দ করা ট্যাঙ্কারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন, তবে ব্রিটিশ ঝুঁকি মূল্যায়ন সংস্থা ভ্যানগার্ড জানায়, জাহাজটি সম্ভবত কাঁচা তেলবাহী স্কিপার। ২০২২ সালে এ জাহাজটি হিজবুল্লাহ ও ইরানের কুদস ফোর্সকে সহায়তা করার অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়েছিল। স্যাটেলাইট চিত্র ও ‘এআইএস’ ডেটা বিশ্লেষণ করেও একই তথ্য পাওয়া গেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্প বারবার ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিচ্ছেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা মাদকের বড় উৎস নয়। মাদুরো বলছেন, এসব চাপ আসলে তার সরকারকে উৎখাতের কৌশল।
একসময়ের আঞ্চলিক মিত্ররা ক্রমে কমে গেলেও ভেনেজুয়েলা এখনও রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী। ইরানের সঙ্গেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পর্ক গভীর হয়েছে—মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান থেকেই এই বন্ধন আরও শক্ত হয়েছে।
অভিযোগ আছে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ মার্কিন ও পশ্চিমা কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করতে সামরিক চাপ ব্যবহার করছে। যদিও ওয়াশিংটন তা অস্বীকার করেছে।
















