যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইউরোপকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেছেন, অভিবাসনের কারণে ইউরোপ এখন “দুর্বল” ও “ক্ষয়িষ্ণু” হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেছেন, অবৈধভাবে যেসব মানুষ ইউরোপে প্রবেশ করেছে, তাদের সবাইকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা উচিত।
মঙ্গলবার পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইউরোপ রাজনৈতিকভাবে সঠিক থাকতে চায়, আর এটাই তাদের দুর্বল করে দিচ্ছে।” তিনি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোতে অভিবাসনের বিরোধিতা করে আসছেন, বিশেষ করে আফ্রিকা ও মুসলিম দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের লক্ষ্য করে তীব্র বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
ট্রাম্প বলেন, “ইউরোপ এখন অন্যরকম জায়গা। এভাবে চলতে থাকলে অনেক দেশ আর টিকে থাকতে পারবে না। তাদের অভিবাসন নীতি সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।”
গত সপ্তাহেই তাঁর প্রশাসন ইউরোপ নিয়ে তীব্র সমালোচনামূলক একটি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয় মহাদেশে “সভ্যতার বিলুপ্তি” ঘটছে এবং ইউরোপের বর্তমান গতিপথের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ইউরোপের অভ্যন্তরীণরাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তাঁর মূল দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করা। তবে তিনি ইউরোপের নির্বাচনে ডানপন্থী দলগুলোকে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা খোলা রেখেছেন।
তিনি আরও জানান, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা চাইছেন, যদিও তিনি অরবান দাবি করা চুক্তির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
ইউরোপের বহু ডানপন্থী দল যারা ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে, নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা। যেমন, জার্মানিতে ক্ষমতাসীন বা বিরোধী কোনো দলই কঠোর ডানপন্থী আফডি (AfD)–কে সরকারে নেওয়ার পক্ষে নয়।
২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করেন যখন তিনি ব্রিটিশ অতিদক্ষিণপন্থী এক নারীর তৈরি মুসলিমবিরোধী ভুয়া ভিডিও টুইটারে শেয়ার করেছিলেন। সেসময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তা “ভুল” বলে মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবার লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, মুসলিম হওয়ায় অভিবাসী ভোটারদের সমর্থনে খান নির্বাচিত হয়েছেন—যা “গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট” ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রতিধ্বনি।
ট্রাম্প বলেন, “লন্ডনের মেয়র খান ভয়ঙ্কর। তিনি অদক্ষ, নিষ্ঠুর এবং শহরের জন্য বিপর্যয়।”
যদিও যুক্তরাজ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঠোর অভিবাসন আইন গ্রহণ করেছে, ট্রাম্প অভিযোগ করেন দেশটি এখনো “অনিয়ন্ত্রিত ও অপরীক্ষিতভাবে” মানুষের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে।
তিনি প্যারিস ও সুইডেনের অবস্থাও সমালোচনা করে বলেন, এই দেশগুলো আর নিরাপদ নয়। অথচ সুইডেনে বছরে মাত্র ৯২টি হত্যাকাণ্ড ঘটে—যা যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিস শহরের সংখ্যার অর্ধেকেরও কম।
ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো যুক্তরাজ্যে খুব কম প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কেবল সাদিক খানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, কিন্তু ট্রাম্পকে সরাসরি সমালোচনা করেননি।















