দারফুরের এল-ফাশের শহর থেকে পালিয়ে আসা অন্তত ১৯ নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছে সুদান ডাক্তার্স নেটওয়ার্ক। সংস্থাটি জানায়, উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যের আল-দাব্বা শহরে আশ্রয় নেওয়া এসব নারীর ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, দুইজন নারী গর্ভবতী অবস্থায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছে, নারীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং নারীর শরীরকে দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চরম উদাহরণ।
সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর সংঘাত চলছে। জাতিসংঘের হিসাবে এতে এখন পর্যন্ত কয়েক দশ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রায় ৩ কোটি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে।
গত অক্টোবর আরএসএফ দীর্ঘ অবরোধ ও অনাহারের অভিযানের পর উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের দখল করে নেয়। এটি ছিল ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি। শহর দখলের পর পালিয়ে যাওয়া বাসিন্দারা গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটসহ নানা নৃশংসতার কথা জানিয়েছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ঘটনাগুলোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছে, আর জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এলাকা পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তারা দারফুরকে “হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য” ও “ভয়াবহতার প্রমাণভূমি” বলে মন্তব্য করেছেন।
সুদান ডাক্তার্স নেটওয়ার্কের মুখপাত্র মোহাম্মদ এলশেইখ আল জাজিরাকে জানান, ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ অধিকাংশ নারী সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে জানাতে চান না। তিনি বলেন, শুধু এল-ফাশের থেকে তাওইলা শহরে পালিয়ে আসা নারীদের মধ্যেই তারা আরও ২৩টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন। আক্রান্তদের বয়স ১৫ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে।
সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সুদানি নারী ও মেয়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আরএসএফ নেতাদের ওপর চাপ বাড়িয়ে হামলা বন্ধ করা, মানবিক আইন মেনে চলা এবং নারী-শিশুদের জন্য নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ করদোফান রাজ্যের একটি প্রি-স্কুলে আরএসএফের হামলায় অন্তত ১১৬ জন নিহত হওয়ার অভিযোগও আন্তর্জাতিক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে, যার মধ্যে ৪৬ জনই শিশু ছিল বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
















