মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ চিঠির বিষয়ে দিল্লির প্রতিক্রিয়া অমীমাংসিত; তারেক রহমান, আরাকান আর্মি, চীনা অর্থায়নে হাসপাতাল প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলেন তৌহিদ হোসেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর অনুরোধে ভারত এখনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। রংপুরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দিল্লি বিষয়টি ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ করছে। তারেক রহমান, আরাকান আর্মি, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সরকারের চলমান পরিকল্পনা সম্পর্কেও বক্তব্য দেন তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারত এখনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দিল্লি বিষয়টি নিয়ে ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ করছে এবং এ ধরনের জটিল বিষয়ে দ্রুত সমাধান পাওয়া সহজ নয়।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। “শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। কিন্তু ফেরানোর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি,” বলেন তিনি। ভারতের প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখযোগ্য যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান–কালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায় ঘোষণার আগেই দু’জনই ভারতে আশ্রয় নেন।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তিনি জানান, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ঢাকায় পৌঁছেছেন এবং খালেদা জিয়াকে সেদিন লন্ডনে নেওয়া হয়নি এয়ারক্রাফটের প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে।
মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে বাংলাদেশি জেলেরা আটক হওয়ার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আরাকান আর্মি কোনো রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে না; তাই সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্ভব নয়।” তবে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকায় চীনা অর্থায়নে যেটি এক হাজার শয্যার হাসপাতাল করার কথা ছিল, সেটি নীলফামারীতে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে রংপুর অঞ্চলসহ প্রতিবেশী দেশ ভারত ও ভুটানের মানুষও উন্নত চিকিৎসা পেতে পারে। রংপুর অঞ্চলে কর্মসংস্থানই বড় চ্যালেঞ্জ—যা মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।
দেশের শাসন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দেশকে এমনভাবে তুলে দিতে চাই, যাতে তারা এক-দেড় বছরের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নধারায় ফিরিয়ে আনতে পারে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সরকার দেশের সব অঞ্চলে সমতা ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
চারদিনের সফরে রংপুরের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন, প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় এবং নীলফামারীর স্কুলশিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা—এসব কর্মসূচি সম্পন্ন করবেন তিনি।
















