দামেস্ক, সিরিয়া – রাজধানী দামেস্কের উমাইয়া স্কয়ারজুড়ে উৎসবের আমেজ। জানালা দিয়ে শরীর বের করে শিশুরা নাড়াচ্ছে সিরিয়ার সবুজ–সাদা–কালো পতাকা, আর আকাশে ফুটছে আতশবাজি। ৮ ডিসেম্বর রাজধানীসহ সারাদেশ মুক্তির প্রথম বার্ষিকী পালন করবে সিরিয়া, তার দুই দিন আগেই স্কয়ারে মানুষের ঢল।
১০ বছর আগে আলেপ্পোর গ্রামাঞ্চলে নিজের বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর ঘরছাড়া হওয়া ২৪ বছর বয়সী আবু তাজও ফিরেছেন এই উৎসব দেখতে। দামেস্ক, বৈরুত ও তারপর সৌদি আরবে বহু বছর কাটানোর পর তিনি সবে সিরিয়ায় ফিরে এসেছেন। ঠিক সেই সময় যখন দেশজুড়ে মানুষ উদ্যাপন করছে সেই অভিযানকে, যা দামেস্ক দখল করে এবং ভোরের আগে বাসার আল–আসাদকে মস্কোয় পালাতে বাধ্য করে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে উমাইয়া মসজিদ থেকে বেরিয়ে আবু তাজ উচ্ছ্বাসভরে বলেন, দেশের সংস্কৃতি এখন মানুষের হাতে ফিরে এসেছে।
এক বছর আগে পতন ঘটে আসাদ শাসনের। দশকের পর দশক ধরে চলা দমন–পীড়ন আর নিখোঁজের রাজনীতি অবসান হওয়ায় বহু সিরীয় অনুভব করেন মুক্তির স্বস্তি। যদিও মুক্তির পর কিছু অঞ্চলে সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দেয়। ইরাক বা লিবিয়ার মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির শঙ্কাও ছিল, বিশেষত যখন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে আর আহমেদ আল–শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এ বছরের মার্চে উপকূলীয় অঞ্চলে এবং জুলাইয়ে সুয়েদায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রাণহানি ঘটায়। উভয় ক্ষেত্রেই সাবেক সরকারি অনুগত শক্তিগুলোর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। গত মাসে হোমসেও অশান্তি দেখা দিলেও সরকার দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেয়।
তবু উদ্যাপনের আগের দিনগুলো স্পষ্ট করে দেয়, শাসন পতন বহু মানুষের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শহরজুড়ে সবার হাতে সবুজ–সাদা–কালো পতাকা। উমাইয়া মসজিদের বাইরে শিশুদের গালে আঁকা পতাকার রং, মারজেহ স্কয়ারে মানুষজন ব্যাগভর্তি পতাকা বিতরণ করছেন।
দির আয যোর থেকে আসা ২২ বছর বয়সী ওমরান বলেন, তিনি ৯ বছর পর মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনজনই ৮ ডিসেম্বর উমাইয়া স্কয়ারে উদ্যাপনে যোগ দেবেন।
ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ স্কয়ারে জড়ো হচ্ছেন। অনেকে ভ্যান, মোটরবাইক বা স্কুটার নিয়ে ছুটে আসছেন ওই ঐতিহাসিক বৃত্তাকার চত্বরে। এখনও দৃশ্যমান রয়েছে জুলাই মাসে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসাবশেষ।
উৎসবে অংশ নেওয়া ইয়র্মুকের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের ২১ বছর বয়সী আবদেলআজিজ আল–ওমারি সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের পতাকা একসঙ্গে উড়িয়ে বলেন, তাঁরা বহু বছর নির্যাতনের মধ্যে ছিলেন, আর এখন দুঃখের বোঝা ধীরে ধীরে কাটছে।
রাতভর গাড়ির হর্ন, আতশবাজি আর উল্লাস চলতে থাকে। শনিবার দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হলেও ৮ ডিসেম্বরের মূল অনুষ্ঠানের দিনে আকাশ পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উমাইয়া স্কয়ারে দাঁড়িয়ে আইনজীবী রহমা আল–তাহা বলেন, মুক্তির পর প্রথম দিকে নিরাপত্তাহীনতা থাকলেও গত এক বছরে পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। তাঁর মতে, এখন দেশে এমন এক আশার অনুভূতি তৈরি হয়েছে, যা আসাদ শাসনের সময়ে ছিল না।
“সবকিছুই বদলাচ্ছে, আর প্রতি মাসে আমরা নতুন কিছু দেখছি,” বললেন তিনি। “আশা আছে।”
















