হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে; ডিসেম্বরেই শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা জানাল আবহাওয়া বিভাগ।
পঞ্চগড়ে মৌসুমের সর্বনিম্ন ১০.৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় শীত বেড়েছে। কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশায় শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট বাড়ছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা দ্রুত বাড়ছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় ডিসেম্বরের শুরুতেই জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র মৌসুমের সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।
তীব্র ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। ভোররাতে খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়া এখন তাদের নিত্যচিত্র। কৃষিশ্রমিক থেকে ভ্যানচালক—অনেকে জানান, ঠান্ডায় কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ায় উপার্জন কমে যাচ্ছে।
বোদা উপজেলার কৃষি শ্রমিক বাবুল বলেন, “ঠান্ডায় ভোরে কাজে বের হওয়া খুবই কষ্টকর। হাত-পা জমে আসে। কিন্তু না গেলে রোজগার বন্ধ।”
আটোয়ারীর ভ্যানচালক আশরাফুল জানান, “সকালে রাস্তায় লোকজন থাকে না, আয়ও কমে গেছে।”
শীতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, শীতের শুরুর দিকেই শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়ার প্রবণতা বেড়েছে।
তেঁতুলিয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলছে, কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির আশপাশে ওঠানামা করছিল। শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া বিভাগ জানায়, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এক বা দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।















