জাম্বিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গু-এর মরদেহ নিয়ে সরকার ও পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা তার মরদেহ তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যদিও পরিবার এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের প্রভাব
লুঙ্গুর মৃত্যু হয় প্রায় ১০ মাস আগে দক্ষিণ আফ্রিকায়। তার জীবদ্দশায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইন্ডে হিচিলেমা-এর সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। সেই বিরোধ এখন তার দাফন নিয়েও জটিলতা তৈরি করেছে।
সরকারি বনাম পারিবারিক সিদ্ধান্ত
জাম্বিয়া সরকার চায় সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানী লুসাকায় বিশেষ কবরস্থানে দাফন করা হোক। তবে লুঙ্গুর পরিবার চায় ব্যক্তিগতভাবে, সীমিত পরিসরে তার দাফন সম্পন্ন করতে।
দক্ষিণ আফ্রিকার আদালতের রায়
গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আদালত রায় দেয় যে জাম্বিয়া সরকার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। পরিবার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও তা কার্যকর হয়নি বলে জানায় সরকার।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আপিল প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
নতুন আইনি লড়াই
পরিবারের আইনজীবীরা এখন দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ আদালতে জরুরি আবেদন করেছেন, যাতে মরদেহটি আবার আগের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পটভূমি
লুঙ্গু ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ শুধু পারিবারিক বা আইনি নয়, বরং রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে বিষয়টি দুই দেশের আইনি ও কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।















