লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি টহল গাড়ির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ঠিক এই সময়েই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যাতে তারা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখতে পারে।
লেবানন সেনাবাহিনী শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, গোয়েন্দা বিভাগ বৃহস্পতিবারের হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জন লেবানিজ নাগরিককে আটক করেছে। ওইদিন তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা ছয়জন বন্দুকধারী শান্তিরক্ষীদের টহলযানের দিকে গুলি চালায়। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
লেবানন সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইউএনআইএফআইএল নামে পরিচিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা সহ্য করবে না। প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই বাহিনী লেবানন ও ইসরায়েলের মাঝে একটি বাফার হিসেবে কাজ করে আসছে এবং গত বছরের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এই গ্রেপ্তারগুলো এমন সময় হয়েছে, যখন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জানান, প্রতিনিধি দলটি দক্ষিণ লেবাননে সফর করবে এবং সেখানে “কি ঘটছে, তার বাস্তব ছবি” দেখবে। বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে লেবানন সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টাও আলোচিত হয়।
গত বছরের যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনীকে লেবানন থেকে সরে যাওয়ার কথা ছিল এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্র প্রত্যাহারের কথা ছিল। কিন্তু জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল এখনো লেবাননের ভেতরে অন্তত পাঁচটি স্থানে অবস্থান করছে এবং প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে, যাতে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর সদস্য ও অবকাঠামো লক্ষ্য করেই অভিযান চালাচ্ছে, যাতে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী পুনরায় সামরিক শক্তি গড়ে তুলতে না পারে। তবে এসব হামলায় বহু বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন এবং ধ্বংস হয়েছে বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সাম্প্রতিক সময়ে ইউএনআইএফআইএল বাহিনীর অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্য করেও গুলি চালিয়েছে বা আশপাশে গুলি ছুঁড়েছে।
এই সফর এমন এক পর্যায়ে হচ্ছে, যখন বহু দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়েছে। গত বুধবার একটি যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় দুই পক্ষ বৈঠকে বসে।
প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন প্রতিনিধি দলের কাছে বলেন, তার দেশ “ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে” এবং “এই পথে আর কোনো পিছু হটার সুযোগ নেই”।
তবে এই আলোচনার খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির মতে, লেবানন ইসরায়েলকে এমন একটি “একতরফা ছাড়” দিয়েছে, যা হামলা থামাতে কোনো কাজে আসবে না।
















