চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে আটক ও অনুপ্রবেশ মামলায় জামিনের পরও জটিলতা কাটেনি; কূটনৈতিক তৎপরতায় সোনালী বিবি ও তার শিশুকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করল বিজিবি—‘পুশ ইন’কে অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলছে বাংলাদেশ।
অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবিকে পরিবারসহ বিএসএফ কর্তৃক ‘পুশ ইন’ করার পর বাংলাদেশে গ্রেপ্তার, মামলা, জামিন ও পুনরায় জটিলতার মধ্য দিয়ে শেষে কূটনৈতিক উদ্যোগে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলো। বিজিবি বলছে, বিএসএফের ‘পুশ ইন’ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত চুক্তির লঙ্ঘন। নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়েছে মামলারও।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ নীতির শিকার অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবি অবশেষে নিজ দেশে ফিরলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ আইসিপিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ও তার আট বছরের ছেলেকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি।
৫৯ বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, সোনালী বিবির স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুই শিশুকে নিয়ে মানবিক পরিস্থিতি এবং ভারতীয় বাহিনীর ‘পুশ ইন’ প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই বাংলাদেশ সরকার এবং বিজিবি কূটনৈতিক পর্যায়ে সক্রিয় হয়। উভয় দেশের সম্মতিতে শেষ পর্যন্ত তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
কিছু মাস আগে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে সোনালী বিবি ও তার পরিবারের ছয় সদস্যকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ‘পুশ ইন’ করে বিএসএফ। ২০ অগাস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর মহল্লা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং সীমান্ত অনুপ্রবেশ আইনে মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার আসামি করা হয়নি পরিবারের দুই শিশুকে।
১ ডিসেম্বর আদালত তাদের জামিন দিলে দেড় ঘণ্টা পরই আবার পুলিশ তাদেরকে হেফাজতে নেয়। পরে জামিনদার ফারুক হোসেনের জিম্মায় পুনরায় হস্তান্তর করা হয়। মামলায় অভিযোগ গঠনের তারিখ তিনবার পেছানোর পর নতুন তারিখ ধার্য হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর।
বিজিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘পুশ ইন’ পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকট সৃষ্টি করছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, “বিএসএফের এই অমানবিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ মানবিক মূল্যবোধ ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রেখে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করেছে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বিএসএফ ‘পুশ ইন’সহ এ ধরনের আইনবহির্ভূত আচরণ বন্ধ করবে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মানবিক নীতি অনুসরণ করবে।
















