সরকারকে না জানিয়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা, বাণিজ্য উপদেষ্টা শোকজ নোটিস জারি করলেও খুচরা বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৮৯ থেকে ১৯৮ টাকায়—বিক্রেতারা পুরনো ও নতুন রেট উভয়ই রাখছেন।
সরকারি ‘কারণ দর্শাও’ নোটিস ও বৈঠকের আহ্বানের পরও ঢাকার কাঁচাবাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়তি পাতায় বেঁধে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার ১৮৯ থেকে বেড়ে ১৯৮ টকা, পাঁচ লিটার বোতল ৯২২ থেকে ৯৬৫ টাকায় পৌঁছেছে—বিক্রেতারা বলছেন, বেশি দামে নিয়ে এলে বিক্রি করতেই হবে; ক্রেতারা ক্ষুব্ধ। পেঁয়াজ-সবজি-মাছের সাম্প্রতিক বাজারেও ওঠানামা দেখা গেছে।
ঢাকাসহ দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের হঠাৎ দামের বাড়তি ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের কারণ দর্শানোর (‘শোকজ’) নোটিশ জারি করা হলেও খুচরা বাজারে নতুন দাম কার্যকর রয়েছে। ঢাকার মহাখালী কাঁচাবাজারে শুক্রবার দেখা যায়—একই ব্র্যান্ডের বোতলের ওপর আগের ও নতুন রেট দুটোই প্রিন্ট করা অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে; বিক্রেতারা বলছেন, যারা পুরানো দামে নিতে চায় তারা নেবে, আর নতুন দামে নিলে নতুন রেট কার্যকর হবে।
বাজার পর্যবেক্ষক ও বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, বোতলের সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৮৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৮ টাকা করা হয়েছে। পাঁচ লিটার বোতলের মূল্য বেড়ে ৯২২ টাকা থেকে ৯৬৫ টাকায় পৌঁছেছে। দুই লিটারের বোতলেও ৮ টাকা বাড়িয়ে ৩৯৬ টাকা করে নতুন রেট দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
রাজিব জেনারেল স্টোরের মালিক রাজিব হোসেন বলেন, “পুরোনো স্টকও আছে—যারা আগের রেটে নিবে তাদের জন্য আগের রেট ও রাখছি; নতুন দামে আনা হলে তো তা নতুন রেটে বিক্রি করতেই হবে।” আরেকটি দোকানের কর্মী মাসুদ রানার ভাষ্য, “আমাদের পারার কিছু নেই—আমরা বেশি দামে কিনে আনছি, থাকলে বিক্রি করব না?”
সরকারও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, ব্যবসায়ীরা সরকারকে অবহিত না করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে; এর পরই ব্যবসায়ীদের ‘কারণ দর্শানো’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তাদের একটি সভায় ডাকা হয়েছে। ব্যবসায়িক সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ১৪ অক্টোবরই দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বলে জানা গেছে। কিন্তু সরকার দাবি করে—এই সিদ্ধান্তে সরকারের সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই।
গ্রাহকদের অসন্তোষও প্রকাশ পাচ্ছে। মহাখালী বাজারে পেঁয়াজও কেজি ১২০-১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে; এক ক্রেতা ইদ্রিস আলী বলেন, “পেঁয়াজের প্যাচ কখন খুলবে কেউ জানে না—৭০-৮০ টাকাই হওয়ার কথা ছিল।” অন্যদিকে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মাছ ও মাংসপণ্যের দরে কিছু ওঠানামা দেখা গেছে—বড় তেলাপিয়ার দাম বাড়ছে, ইলিশের নির্দিষ্ট আকারের দামে লাফ দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্য নীতিমালা ও আমদানিকরদের আচরণ দুটোর সমন্বয় না হলে অপ্রতুল সরবরাহ, ব্র্যান্ডড স্টক ব্যবস্থাপনা ও বাজার মনিটরিংয়ের ঘাটতি থাকলে ভোক্তাদের উপরে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সরকারের শোকজ নোটিশ ও ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ আশা করা হচ্ছে।
















