কুলাউড়ার মুরইছড়া সীমান্তে গরু চরাতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারালেন ২৫ বছর বয়সী সুখীরাম উরাং; বিজিবির তীব্র প্রতিবাদ।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সীমান্তবর্তী জমিতে গরু চরানোর সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন চা শ্রমিক সুখীরাম উরাং। ঘটনায় বিজিবি প্রতিবাদ জানিয়েছে, ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন এক চা শ্রমিক। বৃহস্পতিবার দুপুরে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিজ জমিতে গরু চরানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুখীরাম উরাংয়ের বয়স ২৫ বছর; তিনি মুরইছড়া চা বাগান বস্তির দাসনু উরাংয়ের ছেলে।
কুলাউড়া থানার ওসি ওমর ফারুক মণ্ডল জানান, দুপুর দেড়টার দিকে সুখীরাম ১৮৪৪ নম্বর পিলারের পাশে মাঠে গরু চরাচ্ছিলেন। এ সময় ভারতের দিক থেকে বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আতঙ্কে তিনি দৌড়ে বাংলাদেশের ভেতরের দিকে আসার চেষ্টা করলেও পিঠে বুলেট বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। চিকিৎসকরা সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক এস এস এন মাহফুজুল ইসলাম বলেন, সুখীরামের পিঠে বড় গুলিবিদ্ধ ক্ষত পাওয়া গেছে, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়েছে।
নিহতের কাকা মাকন উরাং বলেন,
“সুখীরাম খুব ভালো ছেলে ছিল। গরু চরাতে মাঠে গিয়েছিল, হঠাৎ ভারতীয় দিক থেকে গুলি শুরু হলে সে দৌড় দেয়। একটি গুলি তার গায়ে লাগে।”
এ ঘটনায় বিজিবি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া জানান, নিহত যুবক সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বিএসএফের সঙ্গে বৈঠক হয় এবং তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। শুক্রবার ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে আরও একটি বৈঠক হবে।
সুখীরামের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বাড়তে থাকা গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়রা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
















