টোকিও | ৫ অক্টোবর ২০২৫
জাপানের রাজনীতিতে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। দেশের প্রধান ক্ষমতাসীন দল উদার গণতন্ত্রী পার্টি (এলডিপি)-এর সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ৬৪ বছর বয়সী সানায়ে তাকাইচি হচ্ছেন জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
একজন নারী হিসেবে তাঁর উত্থান শুধু প্রতীকী নয় এটি পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক সংস্কৃতির চ্যালেঞ্জের মুখে এক সাহসী অগ্রযাত্রা। কিন্তু একইসঙ্গে, তাঁর কঠোর রক্ষণশীল অবস্থান জাপানের প্রতিবেশী দেশ চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও টানাপোড়েনে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।
ইতিহাস গড়লেন এক রক্ষণশীল নারী সানায়ে তাকাইচি রাজনীতিতে নতুন মুখ নন। টেলিভিশন সাংবাদিক থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি ধীরে ধীরে উঠে এসেছেন এলডিপির শীর্ষে। দলের ভেতরে তিনি দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীর প্রতিনিধি যাঁরা জাপানের সামরিক শক্তি বাড়ানো এবং বিদেশি শ্রমিক প্রবাহ কমানোর পক্ষে।
তাকাইচি বহুবার বলেছেন,
“জাপান অতীতের অপরাধবোধ থেকে বেরিয়ে এসে আত্মবিশ্বাসী জাতি হিসেবে দাঁড়াতে হবে।”
এই বক্তব্য অনেক জাপানির কাছে দৃঢ়তার প্রতীক হলেও, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে তা অতীতের যুদ্ধ-অপরাধ অস্বীকারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি, নাকি পুরনো পথেই ফেরা? এলডিপির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে তাকাইচি ১৮৩ ভোট পেয়ে তরুণ প্রতিদ্বন্দ্বী শিনজিরো কোইজুমিকে পরাজিত করেন। দলীয় প্রধান হিসেবে তাঁর নির্বাচিত হওয়া মানেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তবে সংসদীয় আনুষ্ঠানিক ভোট এখনও বাকি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি জাপানের রাজনীতিতে এক প্রজন্মগত পরিবর্তন, তবে মতাদর্শে নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউকিকো নাকামুরা বলেন,
“তাকাইচির জয় নারীর জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কিন্তু তাঁর নীতিগুলো পুরুষ-প্রধান রক্ষণশীল ধারারই ধারাবাহিকতা।”
আঞ্চলিক প্রভাব ও বৈরিতার সম্ভাবনা তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ইস্যুতে আরও দৃঢ় অবস্থান নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনবিরোধী জোটে টোকিওর ভূমিকা আরও সক্রিয় হতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে, যুদ্ধকালীন ইতিহাস ও ক্ষতিপূরণ ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
নারীর অগ্রযাত্রা ধীরে হলেও দৃঢ় তাকাইচির উত্থান এমন এক সময়, যখন জাপানের রাজনীতি, প্রশাসন ও কর্পোরেট জগতে নারীদের উপস্থিতি এখনো সীমিত। তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া হয়তো জাপানি মেয়েদের জন্য এক প্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠবে যদিও প্রশ্ন থেকেই যায়, তিনি নিজেই কি সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবেন, নাকি পুরনো ব্যবস্থারই অংশ হয়ে থাকবেন।

এক নতুন অধ্যায়ের শুরু ১৫ অক্টোবর সংসদে ভোটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকাইচি যদি নেতৃত্ব দেন তাঁর প্রতিশ্রুত “শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী জাপান”-এর পথে, তবে এটি দেশটির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হবে।
কিন্তু যদি অতিরক্ষণশীল নীতিই প্রাধান্য পায়, তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়তো হয়ে উঠবে এক অসম্পূর্ণ অগ্রযাত্রার গল্প।
















