ঢাকা, ৫ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য সারা দেশে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সীমিত নির্বাচনী সাফল্যের ইতিহাস সত্ত্বেও দলটি আবারও মূলধারার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, তালিকাটি প্রাথমিক হলেও মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে তারা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) ব্যবস্থার দাবি তুলেছে—যা বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-প্রভাবিত রাজনৈতিক কাঠামোতে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারের কৌশল।
উচ্চ আকাঙ্ক্ষা, সীমিত বাস্তবতা জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, জনগণের অসন্তোষ তাদের পক্ষে যাবে এবং দলটি পরবর্তী সরকারও গঠন করতে পারে। তবে পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। গত চারটি প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় নির্বাচনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে দলটি প্রায় ৪৩টি আসনে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম।
সহকারী মহাসচিব এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ বাংলা ট্রিবিউন-কে বলেন, “আমরা সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে নির্বাচনে যাচ্ছি। জনগণ এবার দাঁড়িপাল্লা বেছে নেবে।” তবে দলটি কতটি আসনে জয় প্রত্যাশা করছে তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
আগামী নির্বাচনে নাগরিকরা কাকে ভোট দেবে?

অতীতের নির্বাচনী ফলাফল ১৯৯০ সালের পর গণতন্ত্রে ফেরার পর থেকে জামায়াতের ফলাফল নিম্নরূপ:
- ১১৯৯১: ১৮ আসনে জয় (১২.১ %) — সর্বোচ্চ সাফল্য।
- ১৯৯৬: ৩ আসন (৮.৬ %)।
- ২০০১: চারদলীয় জোটের অংশ হিসেবে ৩১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৭ আসনে জয় (৪.৩ %)।
- ২০০৮: মাত্র ২ আসন (৪.৭ %) — পঞ্চম স্থানে।
এই পরিসংখ্যান দলটির ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকতাকেই ইঙ্গিত করে, বিশেষত ২০১৩ সালে নিবন্ধন বাতিল ও যুদ্ধাপরাধের মামলার পর।
নেতারা ও আসনভিত্তিক পরিস্থিতি বর্তমান আমির ড. শফিকুর রহমান একাধিকবার পরাজিত হয়ে এবার ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন। অন্যান্য শীর্ষ নেতা — প্রফেসর মিয়া গোলাম পারওয়ার (খুলনা), ড. তাহের (কুমিল্লা) প্রমুখ — দুর্বল ভোটভিত্তি থাকা সত্ত্বেও প্রার্থী হচ্ছেন।

আঞ্চলিক ঘাঁটি দলটির কিছু ভোটব্যাংক রয়েছে সাতক্ষীরা, খুলনা, রাজশাহী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা ও কক্সবাজারে। বরিশালের পিরোজপুর-১ আসন—যেখানে প্রয়াত দেলওয়ার হোসেন সাঈদী জয়ী হয়েছিলেন—এখনও প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিলেটের কিছু এলাকাতেও দলটির সীমিত উপস্থিতি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দলটির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দিহান। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সিপিবি সভাপতি, বলেন, “জামায়াত অতীতের কলঙ্কিত শক্তি। তারা সীমিত সাফল্য পেলেও সেটিকে জনপ্রিয়তার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখাতে চাইবে, কিন্তু জনগণ তাদের ভোট দেবে না।”
সাইফুল হক, বিপ্লবী শ্রমিক পার্টির মহাসচিব, মন্তব্য করেন,
“ভোটের হার কিছুটা বাড়তে পারে, কিন্তু সরকার গঠনের মতো বাস্তবতা এখনো তৈরি হয়নি।”
অন্যদিকে মোজিবুর রহমান মঞ্জু, আমর বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান, বলেন,
“বড় দলগুলোর প্রতি মানুষের ক্লান্তি দেখা দিলে জামায়াত প্রতিবাদী ভোটের কিছুটা সুবিধা পেতে পারে।”
সংগঠন পুনরুজ্জীবন ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পরও জামায়াতে ইসলামীকে সামনে রয়েছে দীর্ঘ পথ। যুদ্ধকালীন অতীত, আইনি জটিলতা ও দুর্বল ভোটভিত্তি তাদের জন্য বড় বাধা। তবুও দলটি বলছে—তারা ব্যালটের মাধ্যমেই নিজেদের বৈধতা ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত।
















