মিয়ানমারের সামরিক সরকার আগামী মাসের নির্বাচনকে সামনে রেখে সেনা শাসনের বিরোধিতা করায় আটক বা মামলা থাকা মোট ৮ হাজার ৬৬৫ জনের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা বাতিল বা সাজা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই নির্দেশনার মাধ্যমে বহু বন্দির ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পথ তৈরি হয়েছে, যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এটিকে অবাধ নির্বাচনের ভান বলে আখ্যা দিয়েছে।
সামরিক সরকার ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে দমন-পীড়ন জোরদার করে এবং দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মধ্যে ডিসেম্বর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়, যা তারা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরছে।
নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, সেনা শাসনের সমালোচনা বা “ভয় সৃষ্টি” ও “ভুয়া তথ্য ছড়ানোয়” দোষী সাব্যস্ত ৩ হাজার ৮৫ জনের সাজা কমানো হয়েছে। এ ছাড়া আরো ৫ হাজার ৫৮০ জনের বিরুদ্ধে চলমান মামলা—যারা এখনও পলাতক—তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এদের মধ্যে কতজন রাজনৈতিক বন্দি এবং কখন তাদের মুক্তি শুরু হবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের মুক্তি কার্যক্রম কয়েক দিন ধরে চলতে পারে।
ইনসেইন কারাগারের বাইরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই অসংখ্য মানুষ তাদের পরিবার ও পরিচিতদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় জড়ো হন। রাজনৈতিক বন্দিদের প্রধান আটককেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এই কারাগার পরিচিত।
তবে ৮০ বছর বয়সী সাবেক রাষ্ট্রনেত্রী অং সান সু চি—যিনি ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে কার্যত গৃহবন্দি—তার মুক্তি এই তালিকায় রয়েছে কি না তা এখনো অজানা। তিনি বর্তমানে ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। যদিও তার দলের সাবেক তথ্যমুখপাত্র কাই টো—যিনি ২০২১ সাল থেকে আটক ছিলেন—মুক্তি পেয়েছেন বলে এএফপি জানিয়েছে।
সমালোচকরা বলছেন, দেশে মুক্ত গণমাধ্যম নেই এবং অং সান সু চির দল এনএলডি–র বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার থাকায় আসন্ন নির্বাচন মোটেই স্বাধীন বা সুষ্ঠু হতে পারে না।
মানবাধিকার সংস্থা বর্মা ক্যাম্পেইন ইউকের পরিচালক মার্ক ফারমানার এক্স-এ লিখেছেন, বন্দিদের জন্য এটি স্বস্তির খবর হলেও, সেনাবাহিনী প্রত্যাশিতভাবেই নির্বাচনের আগে সংস্কারের ভান তৈরিতে রাজনৈতিক বন্দিদের ব্যবহার করছে।
রাজনৈতিক বন্দিদের তথ্য সংগ্রহকারী স্বাধীন সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানায়, বুধবার পর্যন্ত দেশে মোট ২২ হাজার ৭০৮ জন রাজনৈতিক বন্দি, যার মধ্যে সু চি–ও রয়েছেন।
















