Dhaka ০৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

হানিফসহ চার আওয়ামী লীগ নেতার মামলার যুক্তিতর্ক সমাপ্ত

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন কুষ্টিয়া জেলায় সংঘটিত ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের চাঞ্চল্যকর মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার শীর্ষ আসামির বিরুদ্ধে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সমাপ্ত হলো এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেকোনো দিন এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক বেঞ্চে উভয়পক্ষের এই দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত হয়।

মামলার নথিপত্র ও কার্যবিবরণী অনুযায়ী, শুনানির এই পর্যায়ে আসামিপক্ষের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োজিত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তার উপযুক্ত জবাব ও যুক্তিখণ্ডন পেশ করা হয়। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের এই যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়া অন্য তিন আসামিরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় এই চারজন আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর আওয়ামী লীগের এই চার নেতার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি বা ফাঁসির আবেদন জানিয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাদের যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন করা হয়েছিল। যেহেতু আসামিরা পলাতক রয়েছেন, তাই আদালতের নির্দেশে তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন আদালতের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে মূল যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেন প্রবীণ প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলার মূল কার্যক্রম আগেই সমাপ্ত হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু নতুন ও অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। এই অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিলের ধারাবাহিকতাতেই প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষকে পুনরায় যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করতে হয়েছে।

আদালতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জোরালো যুক্তিতে তুলে ধরেন যে, মাহবুব-উল আলম হানিফ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক আন্দোলন কঠোরহস্তে দমন করার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেওয়া সিদ্ধান্ত তিনি পূর্ণ সমর্থন ও সচেতনভাবে মেনে নিয়েছিলেন। একইসঙ্গে নিজের অধীনস্থ দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে আন্দোলন দমনের সমস্ত পরিকল্পনা তিনি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করেছিলেন। তিনি মূলত একজন বেসামরিক বা সিভিলিয়ান লিডার হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন এবং সে কারণেই নিজের অধীনস্থদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান বা সরাসরি টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডগুলো বাস্তবায়ন করিয়েছেন।

প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন যে, ইতিপূর্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমের বিরুদ্ধে আনীত একই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছেন। সেই বিচারে একই অপরাধমূলক অবস্থানে ও কাঠামোগত দায়িত্বে থেকে মাহবুব-উল আলম হানিফও অনুরূপ সর্বোচ্চ শাস্তি লাভ করবেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। কারণ একটি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের প্রতিটি নীতিগত ও দমনমূলক সিদ্ধান্তে হানিফের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার উসকানি ও সহায়তার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থেকে তিনি সেগুলোর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন যুগিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে টেলিফোনে কথোপকথন চালিয়ে তিনি কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি), জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কুষ্টিয়ায় নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের তরফ থেকে সেই সব কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ও কললিস্টসহ ডিজিটাল প্রমাণাদি ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১০ জুন এই মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন প্রক্রিয়া সমাপ্ত শেষে ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন। তারও আগে গত ২৩ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দীর্ঘ জেরা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে নতুন করে অতিরিক্ত প্রমাণাদি ও নথিপত্র আদালতে দাখিল করায় নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উল্লেখ্য, গত বছরের ২ নভেম্বর এই চার আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল-২ বিচার কার্যক্রম শুরুর আনুষ্ঠানিক আদেশ প্রদান করেছিলেন। এর আগে ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয় এবং তার পরদিন ৬ অক্টোবর আদালত তা আমলে নেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মূলত আন্দোলন দমনে উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান, গভীর ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়া জেলায় ছয়জন নিরপরাধ মানুষকে ঠান্ডা মাথায় হত্যার মতো গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

হানিফসহ চার আওয়ামী লীগ নেতার মামলার যুক্তিতর্ক সমাপ্ত

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন কুষ্টিয়া জেলায় সংঘটিত ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের চাঞ্চল্যকর মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার শীর্ষ আসামির বিরুদ্ধে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সমাপ্ত হলো এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেকোনো দিন এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক বেঞ্চে উভয়পক্ষের এই দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত হয়।

মামলার নথিপত্র ও কার্যবিবরণী অনুযায়ী, শুনানির এই পর্যায়ে আসামিপক্ষের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োজিত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তার উপযুক্ত জবাব ও যুক্তিখণ্ডন পেশ করা হয়। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের এই যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়া অন্য তিন আসামিরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় এই চারজন আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর আওয়ামী লীগের এই চার নেতার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি বা ফাঁসির আবেদন জানিয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাদের যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন করা হয়েছিল। যেহেতু আসামিরা পলাতক রয়েছেন, তাই আদালতের নির্দেশে তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন আদালতের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে মূল যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেন প্রবীণ প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলার মূল কার্যক্রম আগেই সমাপ্ত হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু নতুন ও অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। এই অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিলের ধারাবাহিকতাতেই প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষকে পুনরায় যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করতে হয়েছে।

আদালতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জোরালো যুক্তিতে তুলে ধরেন যে, মাহবুব-উল আলম হানিফ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক আন্দোলন কঠোরহস্তে দমন করার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেওয়া সিদ্ধান্ত তিনি পূর্ণ সমর্থন ও সচেতনভাবে মেনে নিয়েছিলেন। একইসঙ্গে নিজের অধীনস্থ দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে আন্দোলন দমনের সমস্ত পরিকল্পনা তিনি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করেছিলেন। তিনি মূলত একজন বেসামরিক বা সিভিলিয়ান লিডার হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন এবং সে কারণেই নিজের অধীনস্থদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান বা সরাসরি টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডগুলো বাস্তবায়ন করিয়েছেন।

প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন যে, ইতিপূর্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমের বিরুদ্ধে আনীত একই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছেন। সেই বিচারে একই অপরাধমূলক অবস্থানে ও কাঠামোগত দায়িত্বে থেকে মাহবুব-উল আলম হানিফও অনুরূপ সর্বোচ্চ শাস্তি লাভ করবেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। কারণ একটি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের প্রতিটি নীতিগত ও দমনমূলক সিদ্ধান্তে হানিফের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার উসকানি ও সহায়তার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থেকে তিনি সেগুলোর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন যুগিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে টেলিফোনে কথোপকথন চালিয়ে তিনি কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি), জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কুষ্টিয়ায় নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের তরফ থেকে সেই সব কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ও কললিস্টসহ ডিজিটাল প্রমাণাদি ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১০ জুন এই মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন প্রক্রিয়া সমাপ্ত শেষে ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন। তারও আগে গত ২৩ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দীর্ঘ জেরা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে নতুন করে অতিরিক্ত প্রমাণাদি ও নথিপত্র আদালতে দাখিল করায় নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উল্লেখ্য, গত বছরের ২ নভেম্বর এই চার আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল-২ বিচার কার্যক্রম শুরুর আনুষ্ঠানিক আদেশ প্রদান করেছিলেন। এর আগে ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয় এবং তার পরদিন ৬ অক্টোবর আদালত তা আমলে নেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মূলত আন্দোলন দমনে উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান, গভীর ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়া জেলায় ছয়জন নিরপরাধ মানুষকে ঠান্ডা মাথায় হত্যার মতো গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।