উত্তর নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র হামলা, অস্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে দেশটি নজিরবিহীন ক্ষুধা সংকটে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
জাতিসংঘের এই সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে—যা ডব্লিউএফপি’র পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ।
বর্নো রাজ্যে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ “চরম ক্ষুধা” বা “দুর্ভিক্ষসদৃশ পরিস্থিতি”র মুখে পড়তে পারে। এই অঞ্চলটি গত ১৬ বছর ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহী হামলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
ডব্লিউএফপি জানায়, বর্নো, সোকোতো, ইয়োবে ও জামফারা রাজ্যে শিশুদের অপুষ্টির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, আর বর্নো, আদামাওয়া ও ইয়োবে—মূলত কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে—প্রায় ৬ মিলিয়ন মানুষ ন্যূনতম খাদ্য সরবরাহ পাচ্ছে না।
সংস্থাটির নাইজেরিয়া দেশের পরিচালক ডেভিড স্টিভেনসন বলেন, “উত্তরাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহ স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব নাইজেরিয়ার বাইরে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বারবার হামলা ও অর্থনৈতিক চাপ মানুষের জীবনকে চরম সংকটে ফেলছে।”
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বে বোকো হারামের সহিংসতা ছাড়াও উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা, গ্রাম দখল, হত্যাকাণ্ড এবং অপহরণ এখন নিয়মিত ঘটনা। গত এক সপ্তাহেই দেশটিতে তিনটি বড় অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
গত শুক্রবার নাইজার রাজ্যের সেন্ট মেরিজ ক্যাথলিক স্কুল থেকে অন্তত ৩০৩ শিশু এবং ১২ শিক্ষককে অপহরণ করে বন্দুকধারীরা। পাশাপাশি কেব্বি রাজ্যে ২৫ জন ছাত্রী এবং কোয়ারা রাজ্যে লাইভস্ট্রিম চলাকালীন এক গির্জা থেকে ৩৮ জন উপাসককে তুলে নিয়ে যায়।
ডব্লিউএফপি সতর্ক করেছে যে বৈশ্বিক ত্রাণ তহবিলে সংকট দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। চলতি বছরের জুলাইয়ে সংস্থাটি নাইজেরিয়ায় পুষ্টি কর্মসূচি কমাতে বাধ্য হয়, যার ফলে ৩ লাখের বেশি শিশু প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয় এবং অপুষ্টির মাত্রা “গুরুতর” থেকে “জরুরি” পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র—যা ডব্লিউএফপি’র সবচেয়ে বড় দাতা—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে ত্রাণ সহায়তা কমিয়ে দেওয়ায় সংস্থাটি ডিসেম্বরের মধ্যেই জরুরি খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
















