ভূমিকম্পসহ বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের উদ্ধার সক্ষমতায় ভয়াবহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ১৯ বছরে কেনা উদ্ধার সরঞ্জামের অর্ধেকই অচল বা মেয়াদোত্তীর্ণ। নতুন প্রকল্পের ৪ বছরে মাত্র ২০% সরঞ্জাম কেনা গেছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
সরঞ্জাম কেনায় ধীরগতি, বিপুল বাজেট–সত্ত্বেও ২০% সংগ্রহ সম্পন্ন; ভূমিকম্পের ঝুঁকির মাঝে অপ্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস।
ঢাকা,২৪ নভেম্বর ২০২৫:
বাংলাদেশে ভূমিকম্পসহ বড় কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশ এখনো মারাত্মকভাবে অপ্রস্তুত—এমন কঠোর সতর্কবার্তাই এসেছে সর্বশেষ সরকারি প্রতিবেদনে।
গত ১৯ বছরে যেসব উদ্ধার সরঞ্জাম কেনা হয়েছে, তার অর্ধেকই এখন অচল বা মেয়াদোত্তীর্ণ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়—উদ্ধারযন্ত্রের তৃতীয় ধাপের সংগ্রহে ৪ বছরে মাত্র ২০ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ২০২১ সালে, কিন্তু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিলম্বে সরঞ্জাম সংগ্রহ হয়েছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। এর ফলে সশস্ত্র বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস—উভয় বাহিনীরই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির বড় অংশ এখন অকেজো।
অচল হয়ে পড়া যেসব সরঞ্জাম দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে জরুরি—তার মধ্যে রয়েছে হাইড্রোলিক এক্সকাভেটর, স্প্রেডার, কংক্রিট কাটার, র্যাম জ্যাক, ব্রিদিং অ্যাপারেটাস ও ক্রেন।
এসব ছাড়া আটকে পড়া মানুষ শনাক্ত করা, ধসে পড়া ভবন কাটা বা ভারী অংশ সরানোর মতো উদ্ধার অভিযানে সাফল্য পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালকদের মতে, যন্ত্রপাতি কেনা হলেও প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতিই সবচেয়ে বড় সংকট। দেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার প্রশিক্ষণ একাডেমি নেই।
এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন—সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি এখনই কমিউনিটি–ভিত্তিক প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তোলা, ওয়ার্ডভিত্তিক সরঞ্জাম মজুদ এবং আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং চালু করাই জরুরি।
বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি যখন দ্রুত বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতার এই ঘাটতি, ভবিষ্যতের জন্য স্পষ্ট একটি হুঁশিয়ারি।
















