যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের মধ্যস্থতায় প্রস্তুত বলে জানানো ওই ২৮ পয়েন্টের প্রস্তাবে ইউক্রেনকে রাষ্ট্রসত্তা স্বীকৃতি দিলেও নবীন ভূখণ্ড প্রদানের অনুরোধ, ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার নিশ্চয়তা এবং সামরিক সীমাবদ্ধতার মতো কড়াকড়ি রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা হবে—তবে ক্রিমিয়া, লুহানস্ক ও ডোনেটস্ককে কার্যত রাশিয়ার এলাকাভুক্ত হিসেবে মানতে বলা হয়েছে এবং খেরসন-জাপোড়িজিয়ার লড়াই-রেখা ‘ফ্রিজ’ করে রেখেই সেই অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কথা উঠে এসেছে।
নথিতে বলা রয়েছে, ইউক্রেনকে সংবিধানে NATO না-যোগের বিধান রাখতে হবে, সেনাবাহিনীর সংখ্যা ৬০ হাজার (৬০০,০০০ না—এই অংশটি অনুবাদসূত্রে বিভ্রান্তি থাকতে পারে) সীমাবদ্ধ করা হবে এবং ন্যাটো ইউক্রেনেই সৈন্য মোতায়েন করবে না বলে সম্মত করতে হবে। নিরাপত্তা গ্যারান্টি গ্রহণের শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ‘ক্ষতিপূরণ’ চাইবে এবং চুক্তি ভঙ্গ হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া ও নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের হুমকি থাকবে।
অর্থনীতির অংশে লেখা আছে বরফে থাকা রুশ সম্পদ থেকে যোগ্য একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন এবং ইউক্রেনের পুনর্নির্মাণে ব্যাপক বিনিয়োগ; প্রকল্প থেকে লাভের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে যাবে—নথিতে frozen assets নিয়ে স্পষ্ট হিসাব এবং ব্যবস্থাপনা উল্লেখ আছে। রাশিয়াকে বিশ্ব অর্থনীতিতে আবার ভরসাযোগ্যভাবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও প্রস্তাবে রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধকালীন সমস্ত পক্ষকে ‘পূর্ণ ক্ষমা’ (অ্যামনেস্টি) দেওয়ার ধারাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রস্তাব পেয়ে তা নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও তিনি সতর্কতাও মাত্রার সঙ্গে ব্যক্ত করেছেন—অধিকার ও সার্বভৌমত্ব সম্মান, সেই শর্তেই ‘সত্যিকার’ শান্তি চান। ইউরোপীয় মিত্ররা প্রাথমিকভাবে কড়া সমালোচনা করছেন; তারা বলছেন, বর্তমান শর্তসমূহে ইউক্রেনকে অতিরিক্ত জমি ছাড়তে হবে এবং এতে ভবিষ্যতে দেশটি আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নথির অনেক শর্ত অস্পষ্ট, প্রয়োগযোগ্য নয় বা বাস্তবে বহুবিধ অনর্গল বিতর্কের জন্ম দেবে।
আইনি ও নৈতিক দিক থেকেও সমস্যা প্রবল: প্রস্তাবে যুদ্ধাপরাধ-সংক্রান্ত দাবি মোকচি করে দেয়ার ধারাটি আন্তর্জাতিক আদালত ও আইসিসের রায়ের সঙ্গে সংঘর্ষে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। অনেকের ধারণা, যদি এই নথির বর্তমান রূপে চূড়ান্ত চুক্তি করা হয়, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও মানবাধিকারকে হালকাভাবে দেখা হিসেবে ব্যাখ্যা হতে পারে এবং অন্য স্থলাভিযানকারীদের জন্য অপ্রীতিকর precedent গড়ে তুলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, নথিটি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যোগাযোগের ফসল বলে যে দাবি উঠেছে, তাতে ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের পূর্ণ সমর্থন না থাকায় বাস্তবায়ন দুরূহ মনে করছেন বিশ্লেষকরা — এখন বিষয়টি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের আলোচনার মঞ্চে কতটা পরিবর্তিত হয়, সেটাই নির্ধারণ করবে এই প্রস্তাবের ভাগ্য।
















