অস্ট্রেলিয়ার নর্দান টেরিটরিতে আঘাত হানা শক্তিশালী ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ফিনার তাণ্ডবের পর স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তাঘাট পরিষ্কার ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঝড়ে গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সিগনাল ভেঙে পড়েছে এবং হাজারো পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
ফিনা কয়েকদিন ধরে উপকূলের কাছে অবস্থান নিয়ে দ্রুত শক্তি বাড়িয়ে ক্যাটেগরি-৩ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় এবং শনিবার রাতে ডারউইন ও টিউই দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে বয়ে যায়। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রধান তাণ্ডব নর্দান টেরিটরি উপকূল থেকে সরে গেলেও রবিবারও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকবে।
নর্দান টেরিটরির মুখ্যমন্ত্রী লিয়া ফিনোকিয়ারো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৯ হাজার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছে এবং তা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। সবাই মিলে গাছ কাটছে, রাস্তা পরিষ্কার করছে। প্রস্তুতি থাকার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কেউ আহতও হননি।”
ঝড়ের তাণ্ডবে ডারউইন হাসপাতালের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে। ছাদ থেকে ইট ও ধ্বংসাবশেষ করিডোরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার বন্ধ হওয়া ডারউইন বিমানবন্দর রবিবার পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
ফিনা এখন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে এবং শক্তি বাড়িয়ে ক্যাটেগরি-৪ এ পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া বিভাগ বলছে, সেটি ভূমিতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা কম এবং কয়েক দিনের মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।
ডারউইনের বাসিন্দাদের কাছে এই ঝড় ১৯৭৪ সালের প্রলয়ঙ্করী সাইক্লোন ট্রেসির ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যেটি বড়দিনে শহরের বড় অংশ ধ্বংস করে দেয় এবং ৬৬ জনের প্রাণহানি ঘটায়।
















