দীর্ঘ দুই বছরের অপেক্ষা শেষে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী কাম্প ন্যুতে ফিরেই দারুণ এক রাত উপহার দিল বার্সেলোনা। অভিষিক্ত নতুন রূপের অর্ধসমাপ্ত স্টেডিয়ামে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শকের সামনে জাভির দল ১০ জনের অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ঘরের মাঠে প্রত্যাবর্তন উদযাপন করল।
শনিবারের ম্যাচে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার হাতে। ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে রবার্ট লেভানডভস্কি গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। অ্যাথলেটিকের আলেক্স বেরেঙ্গার বল ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে পোলিশ স্ট্রাইকার সেটির সদ্ব্যবহার করেন।
প্রথমার্ধের শেষ সময়ে এসে দ্বিতীয় গোল পায় বার্সা। লামিন ইয়ামালের নিখুঁত লম্বা পাস ধরে ফেরা্ন তোরেস দারুণ দক্ষতায় গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার তিন মিনিটের মাথায় অ্যাথলেটিক ডিফেন্সের আরেকটি ভুলে ফেরমিন লোপেজ স্কোরলাইন ৩-০ করেন।
৫৩ মিনিটে ওইহান সান্সেট বেপরোয়া চ্যালেঞ্জের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখলে অ্যাথলেটিক আরও চাপে পড়ে। শেষদিকে ইয়ামালের আরেকটি দারুণ অ্যাসিস্ট থেকে তোরেস নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বড় জয় নিশ্চিত করেন।
জয়ে লা লিগা টেবিলের শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে সমান পয়েন্টে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। রিয়াল রবিবার এলচের বিপক্ষে খেলবে।
ম্যাচ শেষে লেভানডভস্কি বলেন, “সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো আমরা কাম্প ন্যুতে ফিরেছি। এখানে খেললে দল আরও শক্তিশালী অনুভব করে।”
২০২৩ সালের মে মাসের পর প্রথমবার কাম্প ন্যুতে ফিরলেন সমর্থকরা। দুই বছর ধরে বার্সা নিকটবর্তী অলিম্পিক স্টেডিয়ামে খেলতে বাধ্য হয়েছিল, যা সমর্থক ও খেলোয়াড়দের জন্য বেশ কষ্টকর ছিল। তাই নতুন করে সাজানো স্টেডিয়ামে ফিরে সমর্থক-খেলোয়াড়—সবারই উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
যদিও স্টেডিয়ামের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। উপরিতলার বেশিরভাগ অংশ এখনো নির্মাণাধীন, বিশাল ক্রেন দাঁড়িয়ে আছে স্টেডিয়ামের চারপাশে। ২০২৩ সালের জুনে শুরু হওয়া এই সংস্কারকাজ শেষ হলে ১,০৫,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতা পাবে ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়ামটি।
ক্লাবটি সংস্কারের জন্য ১.৪৫ বিলিয়ন ইউরো ঋণ নিয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট দিন এখনো জানায়নি বার্সেলোনা, তবে ধাপে ধাপে আরও দর্শক ধারণের অনুমতি চাইবে বলে জানিয়েছে।
ইউএফএ ইতোমধ্যে ৯ ডিসেম্বর আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে ইউরোপা ম্যাচ কাম্প ন্যুতে আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে বার্সাকে।
















