বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক সংকটে। শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া থেকে ‘ডি-ইন্ডিয়ানাইজেশন’ নীতি—সব মিলিয়ে দুদেশের সম্পর্কের সামনে কঠিন পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করা, অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ডি-ইন্ডিয়ানাইজেশন’ নীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির পুনর্গঠন—সব মিলিয়ে অস্থিরতার নতুন অধ্যায়।
ঢাকা,২২ নভেম্বর ২০২৫:
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ওপর নেমে এসেছে নতুন কূটনৈতিক চাপ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। কিন্তু ঢাকা তাকে ফেরত চাইছে—দিল্লি স্পষ্টতই তাতে সায় দিচ্ছে না। ফলে যাকে মানবিক আশ্রয় হিসেবে দেখা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত এখন পরিণত হয়েছে দুই দেশের সম্পর্কে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায়।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সামনে এখন চারটি জটিল বিকল্প—হাসিনাকে ফেরত দেওয়া, বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা, তাকে চুপ থাকতে বলা অথবা তৃতীয় দেশে পাঠানোর চেষ্টা। কিন্তু প্রত্যেকটি পদক্ষেপই জটিল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে।
১৫ বছরের শাসনকালে হাসিনা ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন; অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর থেকেই ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে—ভারতের সঙ্গে বিচারিক সহযোগিতা স্থগিত, জ্বালানি ও সংযোগ চুক্তি পুনর্বিবেচনা, এবং চীন–পাকিস্তান–তুরস্কের দিকে ঝোঁক—যা বিশ্লেষকদের ভাষায় ‘ডি-ইন্ডিয়ানাইজেশন’।
বাংলাদেশ এখন ভারতের ওপর আগের মতো নির্ভরশীল থাকতে চায় না, এমন লক্ষণ স্পষ্ট। জরিপ বলছে—বাংলাদেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে দেখে, যেখানে ভারতের প্রতি অনুকূল মনোভাব মাত্র ১১ শতাংশ।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন—রাজনৈতিক সম্পর্কে ধাক্কা লাগলেও বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা—এই তিন ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা অপরিহার্য। ৪,০৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবেশাধিকার—সবই ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস—আগামী ১২ থেকে ১৮ মাস দুই দেশের সম্পর্ক অস্থির থাকবে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে—সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হবে, নাকি আরও দূরত্ব বাড়বে।
















