মাত্র ১ রান দূরে থাকা অপেক্ষা মুশফিকুর রহিমের শেষ হলো আজ মাত্র ৮ বলে। দিন শুরুর প্রথম ওভার মেডেন পার করার পর গ্যালারিতে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলেই দৌড়ে এক রান নিয়ে তিনি পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে। হেলমেট খুলে সতীর্থদের দিকে ইঙ্গিত, তারপর মাঠেই সেজদা—সব মিলিয়ে উদ্যাপনটি ছিল শান্ত, স্থির এবং আবেগে ভরা।
মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই ইনিংস যেন মুশফিকের দুই দশকেরও বেশি সময়ের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রতিচ্ছবি। গতকাল বাংলাদেশ যখন ৯৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে, তখনই ক্রিজে এসে দলের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। প্রথম দিন মধ্যাহ্নভোজের ঠিক পরেই ৮৩ বলে ফিফটি, আর দ্বিতীয় দিনে ১৯৫তম বলে পূর্ণ হয় সেঞ্চুরি। পুরো ইনিংসে মুশফিক বাউন্ডারি থেকে নেন মাত্র ২০ রান।
এ টেস্টটি মুশফিকের জন্য আগেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল—বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে খেলছেন তাঁর শততম টেস্ট। সেই বিশেষ ম্যাচ আরও স্মরণীয় হয়ে গেল সেঞ্চুরির মাধ্যমে। টেস্ট ইতিহাসে শততম ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ক্রিকেটারদের তালিকায় তিনি এখন একাদশ সদস্য।
অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং শততম টেস্টে দুটি ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। মুশফিক সেই কীর্তির সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে ফেলতে পারবেন কি না, সেটি জানতে অপেক্ষা দ্বিতীয় ইনিংসের। তবে এই ইনিংসেই তাঁর সামনে ছিল আরেকটি রেকর্ডের সুযোগ—শততম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি, যা এখন পর্যন্ত করেছেন শুধু ডেভিড ওয়ার্নার ও জো রুট।
আয়ারল্যান্ডের বোলিং ও মিরপুরের পরিচিত কন্ডিশনে সেটি অসম্ভব ছিল না। তিনবার আগেই দ্বিশতক করা মুশফিকের জন্য মঞ্চটি প্রস্তুতই ছিল। তবে ৯৯তম ওভারে হামফ্রিসের বলে বলবার্নির হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ চারসহ ২১৪ বলে ১০৬ রানে থামেন তিনি। ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় শেরেবাংলা স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় এই কীর্তিমানকে।
















