জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বিতর্কিত তাইওয়ান মন্তব্যকে কেন্দ্র করে টোকিও–বেইজিং কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ায় চীন আবারও জাপানি সামুদ্রিক খাদ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
বুধবার এনএইচকে ও কিয়োদো নিউজ জানায়, চলতি মাসের শুরুর দিকে চীন যে আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল, তা আবারও কার্যকর করতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে প্রক্রিয়াজাত বিকিরণযুক্ত পানি সমুদ্রে ছাড়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল বেইজিং।
কিয়োদোর প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন জানিয়েছে—ফুকুশিমার পানি নিয়ে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হওয়ায় আমদানি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জাপানি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর পেছনে বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনাই প্রধান কারণ।
উত্তেজনা বাড়ে যখন ৭ নভেম্বর জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সংসদে বলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা করে এবং তাতে জাপানের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে, তাহলে টোকিও সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
তাকাইচির এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় চীনা সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে জাপান তার নাগরিকদের চীনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়।
এমনকি চীনের ওসাকা কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল শুয়ে জিয়ান এক পোস্টে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে লিখেছিলেন, “ওই নোংরা গলাটা কেটে ফেলব”—যা তাকাইচিকে উদ্দেশ্য করে বলে মনে করা হয়। টোকিও এ নিয়ে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।
চীন শুধু ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেনি, বরং তাকাইচিকে মন্তব্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে। তবে জাপান বলেছে, তার বক্তব্য সরকারের অবস্থান থেকেই এসেছে।
বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে মঙ্গলবার চীন সফর করেন জাপানের এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা মাসাকি কানাই। তবে আলোচনার পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে শীতল আচরণ স্পষ্ট ছিল। চীনা কর্মকর্তা লিউ জিনসঙ বলেন, তিনি বৈঠক নিয়ে “খুবই অসন্তুষ্ট”।
নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে জাপানের মোট সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানির এক-পঞ্চমাংশই যেত চীনে।
এদিকে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ছড়িয়ে পড়েছে সাংস্কৃতিক খাতেও। চায়না ফিল্ম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তত্ত্বাবধানে থাকা চায়না ফিল্ম নিউজ জানিয়েছে, দুইটি জাপানি সিনেমার মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। ছবিগুলো ২২ নভেম্বর ও ৬ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।
















