পোল্যান্ডের রাজধানীর অদূরে এক রেললাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় রুশ গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ করা দুই ইউক্রেনীয় নাগরিককে সন্দেহ করছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তাস্ক। ঘটনাটি শুধু একটি রেললাইন ভাঙার নয়, বরং দুই দেশের সীমান্তে যাতায়াত করা ট্রেনে মৃত্যুর ছায়া নেমে আসার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বলে মনে করছেন তিনি।
তাস্ক জানান, অভিযুক্তদের পরিচয় কর্তৃপক্ষ জানলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা প্রকাশ করা হবে না। তাঁর ভাষায়, এই দুই ব্যক্তি অনেক দিন ধরেই রুশ গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিল। শনিবার মিকা নামের ছোট্ট গ্রামের কাছে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে ওয়ারশা লুবলিন রুটের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে লাইনটি পোল্যান্ডের রাজধানী থেকে ইউক্রেন সীমান্ত পর্যন্ত বয়ে গেছে, সেখানে এমন একটি আঘাত দুই দেশের সম্পর্কের ওপরও গভীর ছাপ রেখে যায়।
প্রধানমন্ত্রী সন্দেহ করেন, বিস্ফোরণটির লক্ষ্য ছিল যাত্রীবাহী ট্রেনটিকেই ধ্বংস করা। হৃদয় কাঁপিয়ে দেওয়া এই ঘটনার পাশাপাশি পুলাভির কাছে বিদ্যুৎলাইন ভাঙচুরকেও অতিরিক্ত নাশকতা হিসেবে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। দুই স্থানে ট্রেন চলাচল থেমে যায়, আটকে পড়েন যাত্রীরা। তবে কেউ আহত হননি।
পোলিশ প্রসিকিউটররা সন্ত্রাসী ধাঁচের নাশকতার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। তাদের মতে, বিদেশি গোয়েন্দাদের স্বার্থে করা এসব কর্মকাণ্ড বহু মানুষের জীবনঝুঁকি তৈরি করেছে এবং রাষ্ট্রের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন দ্রুত মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষতচিহ্ন এখনও তাদের জাতির বুকেই রয়ে গেছে, যেখানে নিরাপত্তা প্রতিবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
রাজধানীর এই স্পর্শকাতর ঘটনার পর জানা যায়, অভিযুক্তদের একজন ইউক্রেনের লভিভ আদালতে আগেই নাশকতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। অন্যজন দোনবাস অঞ্চলের বাসিন্দা, যিনি এই শরতেই বেলারুশ হয়ে পোল্যান্ডে প্রবেশ করেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, ঘটনার পরপরই দুজনই বেলারুশে পালিয়ে গেছেন।
এদিকে পোল্যান্ডজুড়ে গত কয়েক বছরে অগ্নিসংযোগ, সাইবার হামলা ও নাশকতার যে ঢেউ চলছে, তা ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর থেকেই আরও প্রকট হয়েছে। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় ৫৫ জনকে আটক এবং ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তাস্ক।
পোল্যান্ডের অভিযোগের পরপরই রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া আসে। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেন, ইউরোপের দেশগুলোতে রাশিয়াকে দোষী দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে এবং পোল্যান্ড সেই দৌড়ে সবার আগে থাকতে চাইছে। তাঁর মতে, এ সবই রাশিয়া বিদ্বেষের প্রকাশ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পোল্যান্ড রুশ কূটনীতিকদের চলাচল সীমিত করেছে এবং দুটি রুশ কনস্যুলেট বন্ধের আদেশ দিয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
















