ঢাকা, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ —
রাজধানীর একটি বড় আদালতে আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত রায়ে শেখ হাসিনা’র বিরুদ্ধে গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও এক কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের রায়।
রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সময়ে আন্দোলন চলাকালে তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পাওয়ার বিশেষ বাহিনী, তাঁর দল এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করে পদ্ধতিগত দমন-পীড়ন চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে ১,৫০০ তীরো বেশি মানুষ নিহত ও ২৫,০০০ তীরো বেশি আহত হওয়ার তথ্য দাখিল করা হয়েছে।
রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-এর তিন সদস্যের বিচারক দল, যার নেতৃত্ব দেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। রায়ে সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায় ৪৫৩ পৃষ্ঠার এবং একসাথে ছয় ভাগে বিভক্ত হয়; রায় পড়া শুরু হয় দুপুর ১২:৩৪-এ এবং দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে চলেছে।
রায় ঘোষণা হওয়ার সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সরকারের একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল অঞ্চলসহ ঢাকা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
চলতি মামলায় অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যেই দেশত্যাগ করেছেন এবং একজন গ্রেপ্তার আসামি রাজসাক্ষী স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। প্রসিকিউশন ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগ-দলিল দাখিল করেছে, যেখানে তথ্যসূত্র, জব্দতালিকা, শহীদদের তালিকা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
















