পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আঞ্চলিক আইনসভার দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ বিক্ষোভ, সহিংসতা ও বয়কটের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী সংস্কার ও সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবিকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের কারণে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় একটি আন্দোলনকারী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। শুরুতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন হলেও পরে তা আইনসভার সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবিতে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে অভিযান চালানোর পর সংঘাত আরও তীব্র হয় এবং নির্বাচন তিন ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভোটগ্রহণের দিন রাজধানী মুজাফফরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাজার, ব্যাংক, জ্বালানি কেন্দ্র ও গণপরিবহন আংশিকভাবে বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট বিভ্রাটও নির্বাচনী প্রচার ও তথ্য আদান-প্রদানে বড় প্রভাব ফেলেছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহের সংঘর্ষে বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তাদের সদস্যরাও হতাহত হয়েছেন এবং ভোটগ্রহণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
বিক্ষোভের কারণে অনেক ভোটার ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন। তাদের অভিযোগ, চলমান সহিংসতার মধ্যে নির্বাচন আয়োজন জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও অনেক ভোটার অংশ নিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।
ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে দুটি আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে এবং সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, বয়কটের আহ্বান সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছেন এবং প্রথম দুই ধাপের ভোট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।















