ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। পাঁচ বছরের সাজা ঘোষণার পর তিন সপ্তাহ কারাভোগ শেষে সোমবার প্যারিসের আদালত তাঁর মুক্তির নির্দেশ দেয়। আপিলের রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিচারিক নজরদারির মধ্যে থাকবেন বলে আদালত জানিয়েছে।
৭০ বছর বয়সী সারকোজি এখন ফ্রান্স ত্যাগ করতে পারবেন না। আদালত চাইলে তাঁকে গৃহবন্দি অবস্থায় ইলেকট্রনিক ট্যাগ পরতেও হতে পারে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে সারকোজিকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি প্রয়াত লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে ২০০৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য গোপনে অর্থ সহায়তা নিয়েছিলেন। তবে দুর্নীতি ও অবৈধ নির্বাচনী তহবিল গঠনের আলাদা অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান।
অক্টোবরের ২১ তারিখে সারকোজিকে প্যারিসের লা সাঁতে কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে সহবন্দিদের কটুক্তির শিকার হন বলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে।
ভিডিও সংযোগে আদালতে হাজির হয়ে সারকোজি বলেন, “৭০ বছর বয়সে জেলে থাকব— এমন স্বপ্নেও ভাবিনি। এটি ছিল এক কঠিন, ক্লান্তিকর সময়। আমার ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হয়েছে।”
৫০ মিনিটের শুনানিতে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “আমি এমন কিছুর স্বীকারোক্তি দেব না, যা আমি করিনি। সত্য একদিন প্রকাশ পাবে—জীবন আমাকে তাই শিখিয়েছে।”
বাড়ি ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “গল্পের শেষ এখনো লেখা হয়নি। আপিল প্রক্রিয়াই হবে আমার নতুন অধ্যায়।”
আদালত জানিয়েছে, সারকোজি পলাতক হওয়ার ঝুঁকিতে নেই, তাই আপিল শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে থাকতে হবে না।
তার স্ত্রী কারলা ব্রুনি ও দুই পুত্র পিয়ের ও জাঁ সোমবার আদালতে তাঁর পাশে ছিলেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আদালতের সভাপতি মুক্তির আবেদন গ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে সারকোজিকে বিচারিক তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেন।
এ সময় তাঁকে ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আগামী বছর তাঁর আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফরাসি আইনে সাধারণত অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি পালানোর আশঙ্কা বা জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি না হয়, তবে আপিল চলাকালীন সময়ে মুক্ত থাকার অনুমতি পান।
প্রসিকিউশন পক্ষের অভিযোগ ছিল, গাদ্দাফির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিনিময়ে সারকোজি লিবিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে আদালত বলেছে, সারকোজি অর্থ সংগ্রহের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি অর্থ গ্রহণ বা ব্যবহার করেছেন—এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রভাবিত করার আরেকটি মামলার তদন্তও চলছে।
















