তরুণদের উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে শুধু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নয়, বরং দায়িত্বশীল ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে বলে এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরিচয় সংকট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক আঘাত এবং অনলাইন প্রচারণা তরুণদের চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, শান্তি শিক্ষা, নাগরিক শিক্ষা, বৈশ্বিক নাগরিকত্ব, আন্তধর্মীয় সংলাপ এবং ট্রমা-সংবেদনশীল শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করলে তরুণদের উগ্রবাদী প্রচারণা প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষক, স্থানীয় সম্প্রদায় ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বিত অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, মরক্কো, ফিনল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, সফল কর্মসূচিগুলো শিক্ষা, সামাজিক সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগকে একসঙ্গে যুক্ত করেছে। কেবল আইনশৃঙ্খলা বা দমনমূলক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
প্রতিবেদনের মতে, দ্রুত পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে তরুণদের যুক্তিবোধ, সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই চরমপন্থা প্রতিরোধের সবচেয়ে টেকসই পথ। এজন্য শিক্ষাব্যবস্থায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং বাস্তবভিত্তিক পাঠ্যক্রম উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।















