ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট শহর পিনিয়াসে বসবাসকারী বিরল জিনগত রোগ ল্যারন সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষের ওপর দীর্ঘদিনের গবেষণা ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের হার সাধারণ মানুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যা ভবিষ্যতে নতুন ধরনের ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়ক হতে পারে।
ল্যারন সিনড্রোম এমন একটি বংশগত অবস্থা, যেখানে শরীর স্বাভাবিকভাবে গ্রোথ হরমোন তৈরি করলেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উচ্চতা সাধারণত ১ দশমিক ২ মিটারের বেশি হয় না। বিশ্বে বর্তমানে পরিচিত প্রায় ৮৪০ জন এই রোগে আক্রান্ত, যার বেশিরভাগই ইকুয়েডরের এল ওরো ও লোহা প্রদেশে বসবাস করেন।
প্রায় ২২ বছর ধরে পরিচালিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ল্যারন সিনড্রোমে আক্রান্ত প্রায় ১০০ জন এবং একই এলাকার প্রায় ১ হাজার ৬০০ স্বাভাবিক উচ্চতার মানুষের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে ডায়াবেটিসের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি এবং মাত্র একজনের ক্যানসার ধরা পড়ে, অন্যদিকে তুলনামূলক গ্রুপে ডায়াবেটিসের হার ছিল প্রায় ৫ শতাংশ এবং ক্যানসারের হার প্রায় ১৭ শতাংশ।
গবেষকদের ধারণা, ইনসুলিন-লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টর-১ (IGF-1) নামের একটি হরমোনের স্বল্প উপস্থিতি এই সুরক্ষার অন্যতম কারণ হতে পারে। তাদের মতে, এই হরমোন ক্যানসার কোষকে স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে ল্যারন সিনড্রোমে আক্রান্তদের শরীরে IGF-1-এর মাত্রা কম থাকায় ক্যানসারের ঝুঁকিও কম দেখা যায়। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
গবেষণায় অংশ নেওয়া যমজ বোন মারিয়া লুইসা ও মারিয়া দেল সিসনে রোমেরো জানান, তারা বিশ্বাস করেন তাদের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তবে দুই বছর আগে মারিয়া দেল সিসনের কোলন ক্যানসার ধরা পড়ার পর তারা উপলব্ধি করেন যে এই রোগ ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেয় না। অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যারন সিনড্রোমের জৈবিক বৈশিষ্ট্য অনুকরণ করে যদি নিরাপদ ওষুধ বা খাদ্যভিত্তিক চিকিৎসা তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে ভবিষ্যতে ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
















