ইউক্রেন ও মলদোভার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সদস্যপদ অর্জনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃসরকার সম্মেলনের মাধ্যমে এই দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়ার সূচনা হয়।
ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী Taras Kachka সম্মেলনে অংশ নিয়ে বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসন এবং ইউরোপের প্রতি হুমকি মোকাবিলায় ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “রাশিয়ার আগ্রাসন ইউক্রেন ও ইউরোপের জন্য স্থায়ী হুমকি। তাই আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং দ্রুত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার পথে এগোতে হবে।”
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই ইউক্রেনকে সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। কিয়েভের দৃষ্টিতে ইইউ সদস্যপদ শুধু অর্থনৈতিক সুযোগ নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চয়তাও।
তবে ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে ইউরোপের ভেতরে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। অনেক দেশ মনে করে, চলমান যুদ্ধ এবং রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত জটিলতা সদস্যপদ প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলতে পারে।
ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা হতে পারত North Atlantic Treaty Organization-এর সদস্যপদ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন এবং কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশ এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, মলদোভাও দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার প্রভাবমুক্ত হয়ে ইউরোপীয় কাঠামোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। দেশটির সাম্প্রতিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার অভিযোগ উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পশ্চিমাপন্থী নেতৃত্ব ক্ষমতায় টিকে থাকে।
ইইউতে যোগ দিতে আগ্রহী দেশগুলোকে মোট ৩৫টি নীতিগত অধ্যায় বা “চ্যাপ্টার” নিয়ে আলোচনা ও সংস্কার সম্পন্ন করতে হয়। কৃষি, করনীতি, জ্বালানি, বাণিজ্য, বিচারব্যবস্থা এবং মানবাধিকারসহ বিস্তৃত ক্ষেত্র এতে অন্তর্ভুক্ত।
সোমবারের বৈঠকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিচারব্যবস্থা, মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, সরকারি ক্রয়নীতি, পরিসংখ্যান এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান Kaja Kallas এই পদক্ষেপকে “একটি বড় মাইলফলক” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, “দুই দেশই অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। তাদের সদস্যপদ ইউরোপকে আরও শক্তিশালী করবে।”
ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছিল Hungary। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটি তাদের ভেটো প্রত্যাহার করেছে, ফলে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন ও মলদোভার পূর্ণ সদস্যপদ পেতে এখনো কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়া ইউরোপীয় সংহতি ও পূর্ব ইউরোপের ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
















