আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৩৭টি আসনে বিএনপি’র ঘোষিত প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলের ভেতরে বিভিন্ন জেলায় তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া এবং বিতর্কিত/হাইব্রিড প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ায় বিক্ষোভ, সড়ক ও রেলপথ অবরোধসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি বিএনপি’র হাইকমান্ডকে চাপের মুখে ফেলেছে।
মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও সহিংসতা
- বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ: মেহেরপুর-২, চাঁদপুর-৪, মাগুরা-২, মাদারীপুর-১, কুমিল্লা-১০, পটুয়াখালী-৩, ময়মনসিংহ-৩, সাতক্ষীরা-৩, মুন্সীগঞ্জ-১, নীলফামারী-১৫, রংপুর-৩ সহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, মিছিল, অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
- হাইব্রিড ও বিতর্কিত প্রার্থী: তৃণমূল নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন যে, যারা দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন না, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর বিদেশে ছিলেন বা সুসময়ে দলে এসেছেন, এমন বিতর্কিত ও হাইব্রিড নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
- সাংগঠনিক চাপ: ক্ষোভ থাকলেও অনেকে সাংগঠনিক শাস্তির ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।
- হাইকমান্ডের পর্যবেক্ষণ: এসব ঘটনা কেন্দ্র থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই নেতিবাচক তথ্য পাওয়ায় মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে।
- বিএনপি’র বক্তব্য: বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে দলে এখনো কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি, তবে তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অবশ্য দাবি করেছেন, বিক্ষোভ ও মিছিল খুব বেশি নয় (৩ থেকে ৪ শতাংশ) এবং সাংগঠনিক টিম পরিস্থিতি নিরসনে কাজ করছে। নির্দেশ না মানলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াতের শক্তিশালী আসনে দুর্বল প্রার্থী
কয়েকটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিপরীতে বিএনপি’র অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে:
| আসন | জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী | বিএনপি’র প্রার্থী | অভিযোগ/পর্যবেক্ষণ |
| ঢাকা-১৫ | আমীর ডা. শফিকুর রহমান | শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন | মিল্টনের স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচনী এলাকায় ছিল না এবং তিনি কখনো এই এলাকায় রাজনীতি করেননি। যোগ্য মনোনয়নপ্রত্যাশী মামুন হাসানকে বঞ্চিত করা হয়েছে। |
| কুমিল্লা-১১ | নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের | কামরুল হুদা | জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপি’র প্রার্থী অপেক্ষাকৃত দুর্বল। |
| সাতক্ষীরা-২ | মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক | আব্দুর রউফ (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান) | রউফকে ৫ই আগস্টের পর দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তার পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী প্রার্থী আব্দুল আলীমকে বাদ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। |
| খুলনা-৫ | সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার | মোহাম্মদ আলী আসগর (সাবেক এমপি, ব্যবসায়ী) | আসগর ‘ওয়ান ইলেভেন’ পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং ৫ই আগস্টের পরে সক্রিয় হন। |
অন্যান্য বিতর্কিত মনোনয়ন:
- নোয়াখালী-৫: প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং ২০০৯ সালে জামায়াতের সমর্থনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার রেকর্ড রয়েছে। আলোচিত প্রার্থী বজলুল করিম চৌধুরী আবেদকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- চট্টগ্রাম-১২: ৫ই আগস্টের পর বহিষ্কৃত (পরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার) নেতা মোহাম্মদ এনামুল হককে মনোনয়ন। গুমের শিকার সৈয়দ সাদাত আহমেদকে মনোনয়নবঞ্চিত করায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ।
- নেত্রকোণা-৩: প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে। যোগ্য প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলালকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
















