রায়পুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের অফিসগুলো এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বুধবার সন্ধ্যায় এক তহশিলদারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তদন্ত চলছে বলে জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা।
ভূমি অফিসে ঘুস বাণিজ্য: অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযোগের সারসংক্ষেপ:
- সেবার ধরন: নামজারি (জমাখারিজ), খাজনা আদায় ও নাম সংশোধনের মতো সাধারণ সরকারি সেবা।
- খরচের তারতম্য: সরকার নির্ধারিত খরচ মাত্র ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও আদায় করা হচ্ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা, কিছু ক্ষেত্রে লাখ টাকা পর্যন্ত।
- সিন্ডিকেট: ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক, অফিস সহকারী, হিসাবরক্ষক, নাজির ও দালালদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়।
- পদ্ধতি: দালালের মাধ্যমে টাকা না দিলে ফাইল মাসের পর মাস ঝুলে থাকে। অনলাইনে আবেদনের পর থেকে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে খসড়া খতিয়ানের প্রস্তাব, প্রত্যয়ন, নাজিরের টেবিল—সব ধাপেই বাড়তি টাকা দিতে হয়।
- অভিযোগের উদাহরণ:
- উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের এক বাসিন্দার কাছে নামজারির জন্য অফিস সহায়ক মনির হোসেন ৩ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করেন।
- বামনী ইউনিয়নের বাসিন্দা আউয়াল মিয়া অভিযোগ করেন যে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ৩ হাজার ৭০০ টাকা নিয়েও কাজ করেননি এবং টাকা ফেরতও দেননি।
তহশিলদারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ:
উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট ভূমি অফিসের তহশিলদার আব্দুস সত্তারের বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে:
- ঘুষের পরিমাণ: দালালদের (জুয়েল, রশিদ, রাকিব, মনির মৃধা) মাধ্যমে প্রতি ফাইল থেকে ৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস নেওয়া হয়।
- নালিশি ভূমি মামলা: নালিশি ভূমি মামলার তদন্ত রিপোর্টের জন্য ৫০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস দাবি করা হয়।
- হয়রানির অভিযোগ: চরমোহনা গ্রামের বাসিন্দা মন্তাজ মিয়া অভিযোগ করেন, তহশিলদার তার বিরুদ্ধে ঘুস না দেওয়ায় বিপক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন এবং তাকে হয়রানি করছেন। এ বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
| পক্ষ | বক্তব্য |
| তহশিলদার আব্দুস সত্তার (অভিযুক্ত) | তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। অফিসে দালাল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সরকারি খাস জমির তথ্য দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। |
| নিগার সুলতানা (উপজেলা সহকারী কমিশনার, ভূমি) | তাঁর অফিসে সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না। চরবংশী ইউপির তহশিলদার এবং তাঁর অফিসের কর্মচারী মনিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো জেলা প্রশাসক তদন্ত করছেন। |
| মেহেদী হাসান কাউছার (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) | ভূমি অফিসে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ জানা নেই। ঘুস লেনদেন ও মানুষকে হয়রানি করা হলে তাঁকে জানালে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। |
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইতোমধ্যে অভিযুক্ত তহশিলদার এবং তার অফিসের কর্মচারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
















