পাকিস্তানে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে, তবে সরাসরি আলোচনায় অনিশ্চয়তা
জ্বালানি বাজারে চাপ, সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ৫৭তম দিনে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন গতি পেলেও সরাসরি আলোচনার বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানে যাচ্ছেন, যেখানে ইতোমধ্যে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশের মধ্যে আলোচনা স্থবির অবস্থায় রয়েছে এবং ইরান আলোচনায় ফিরবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের জন্য এখনো একটি সুযোগ খোলা রয়েছে, যদি তারা যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৪৪ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করেছে, যা তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক পর্যায়ে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও সরাসরি আলোচনার কোনো নিশ্চিত ঘোষণা এখনো আসেনি।
ইউরোপীয় নেতারা হরমুজ প্রণালী দ্রুত ও বাধাহীনভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ এই জলপথ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। কুয়েত সীমান্তে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যদিও এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও ইরানের তেল সরবরাহ সংক্রান্ত ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এবং চীনভিত্তিক একটি শোধনাগারসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তিনটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তেও সংঘাত চলছে। লেবাননে গোলাগুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।
গাজায়ও হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, আর তেলের দামে ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের ৫৭তম দিনে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়লেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো জটিল ও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
















