ময়মনসিংহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর ময়মনসিংহের দুটি আসনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) ও ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে ঘোষিত প্রার্থীকে নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা। এর ফলে সড়ক ও রেলপথেও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
ময়মনসিংহের ১১টি আসনের মধ্যে বিএনপি ৯টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ময়মনসিংহ সদর আসন স্থগিত এবং গফরগাঁও আসন খালি রাখা হয়েছে।
গৌরীপুরে সড়ক ও ট্রেন অবরোধ
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মনোনয়ন প্রত্যাশী তায়েবুর রহমান হিরণের সমর্থকরা।
- সড়ক অবরোধ: সন্ধ্যার পর তার নেতাকর্মীরা ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের গাজীপুর ও রামগোপুর এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
- রেল অবরোধ: এর আগে, সকালে তারা গৌরীপুর স্টেশনে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। এ সময় তারা ঘোষিত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেইনের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানায়।
ফুলবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল
এদিকে, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুকের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আব্দুল করিম সরকারের অনুসারীরা। সন্ধ্যার পর এই মিছিলটি পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিক্ষোভকারীরা আখতারুল আলম ফারুকের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তারা অভিযোগ করেন, আব্দুল করিম সরকার দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন এবং একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন। তাকে বাদ দিয়ে “জনবিচ্ছিন্ন নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে,” যা নেতাকর্মীরা মানতে পারছেন না।
মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক বলেন, “আমি বিগত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছি। দলের জন্য কাজ করেছি। সেজন্য দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে এবং কাঙ্ক্ষিত মনোনয়ন আমাকেই দিয়েছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের শপথ অনুযায়ী, সকল ভেদাভেদ ভুলে নেতাকর্মীরা ধানের শীষকে জয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।
















