দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের একটি অংশ গ্রহণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে স্প্যানিশভাষী ২৫ জন অভিবাসীকে গ্রহণ করা হবে।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতির অংশ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করে এমন অভিবাসীদের পাঠাচ্ছে, যাদের নিজ দেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই।
প্যারাগুয়ে জানিয়েছে, প্রতিটি অভিবাসীর বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও অভিবাসন নীতির প্রতি সম্মান রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের পাঠাতে পারে, যদিও তাদের সঙ্গে সেই দেশের সরাসরি সম্পর্ক নেই। ইতোমধ্যে কোস্টারিকা, এল সালভাদর, কঙ্গো, এসওয়াতিনি ও দক্ষিণ সুদানসহ কয়েকটি দেশ এ ধরনের উদ্যোগে অংশ নিয়েছে।
এই চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে বহু ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের চুক্তিতে বিদেশি দেশগুলোকে উল্লেখযোগ্য অর্থ দেওয়া হয়েছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, তৃতীয় দেশে অভিবাসীদের পাঠানোর হুমকি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অস্থিতিশীল দেশে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ সুদান ও কঙ্গোর মতো দেশগুলোতে চলমান সংঘাত রয়েছে, যা অভিবাসীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক কর্মকর্তা এই চুক্তিকে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন, এসব অভিবাসীর যুক্তরাষ্ট্রে কোনো আশ্রয় আবেদন চলমান নেই।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই তৃতীয় দেশভিত্তিক বহিষ্কার নীতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক তৈরি করেছে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
















