পেরুতে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচন ঘিরে বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘসূত্রতায় বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষের মধ্যে নির্বাচন সংস্থার প্রধান পদত্যাগ করেছেন। পিয়েরো করভেত্তো সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
তিনি জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া দপ্তর-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করছেন, তবে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের স্বার্থেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম ধাপে নানা লজিস্টিক সমস্যার কারণে ভোট গ্রহণে বিলম্ব ঘটে এবং কিছু এলাকায় সময় বাড়াতে হয়। বিশেষ করে রাজধানী লিমাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যালট পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা কিছু ত্রুটির কথা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় নির্বাচন জুরি জানিয়েছে, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে আরও সময় লাগবে এবং শীর্ষ দুই প্রার্থী পরবর্তী ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বর্তমানে ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তবে দ্বিতীয় স্থানে কে থাকবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়, কারণ অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম।
এই পরিস্থিতি পেরুর রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে আগেই জনগণের মধ্যে আস্থার ঘাটতি ছিল এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই অনাস্থা আরও গভীর করতে পারে।
এদিকে কয়েকজন প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে হাজার হাজার বিতর্কিত ব্যালট পুনঃপর্যালোচনা শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ভোট গণনা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে পেরুর নির্বাচন প্রক্রিয়া বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে এবং এর প্রভাব রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
















