ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন পর্যন্ত খাদ্যের দামে তুলনামূলক কম প্রভাব দেখা গেলেও এর প্রকৃত প্রভাব সামনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে জ্বালানি ও সারসহ কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে, যা খাদ্য উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে। তবে এই প্রভাব সরাসরি বাজারে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগছে বলেই এখনো বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতির তীব্রতা অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কতদিন ব্যাহত থাকে তার ওপর। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল ও সার পরিবাহিত হয়।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘ সময় ধরে এই পথ বন্ধ থাকলে তা বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞ মাটিন কাইম বলেছেন, আগামী মাসগুলোতে খাদ্যের দাম বাড়বে এবং এতে নিম্ন আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেক মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, সোমালিয়া, সুদান, তানজানিয়া, কেনিয়া ও মিশরের মতো দেশগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যের দামে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, তবুও তা আগের বড় সংকটের তুলনায় কম। বর্তমানে বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদন ও মজুত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি বিভ্রান্তিকর হতে পারে, কারণ কৃষি খাত মৌসুমি চক্রের ওপর নির্ভরশীল এবং উৎপাদন ব্যয়ের প্রভাব পরে এসে ধাক্কা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে, যা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে খাদ্যের খুচরা দামে দ্রুত প্রভাব ফেলে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে কম দামের খাদ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি আগের বড় খাদ্য সংকটের মতো ভয়াবহ নাও হতে পারে, কারণ এখনো বড় খাদ্য রপ্তানিকারক দেশগুলো রপ্তানি বন্ধ করেনি।
তবুও সতর্কবার্তা রয়েছে, যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হয়, তাহলে সার ও কৃষি উপকরণের দাম আরও বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্য উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, এখনই বড় সংকট দেখা না গেলেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই সংঘাত বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















