নবীনগরে ‘বাহিনী’ দ্বৈরথ: আধিপত্যের সংঘাতে গুলিবিদ্ধ ৪, নেপথ্যে ডাকাতির ভাগ-বাঁটোয়ারা?
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গ্রামীণ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ‘রিফাত বাহিনী’ ও ‘শিপন বাহিনী’ নামে পরিচিত এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে এক হোটেল কর্মচারীসহ মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার রাতের এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে থোল্লাকান্দি গ্রামের ‘রিফাত বাহিনী’ এবং নুরজাহানপুর গ্রামের ‘শিপন বাহিনী’। শিপন ওই এলাকার কুখ্যাত মনেক ডাকাতের ছেলে হিসেবে পরিচিত।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
সংঘর্ষের শুরু হয় শনিবার রাতে, বড়িকান্দি ইউনিয়নের গনি শাহ মাজার সংলগ্ন একটি রেস্তোরাঁয়। শিপন ওই হোটেলে খেতে বসেছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে, অভিযোগ ওঠে, রিফাত বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অতর্কিত হামলা চালায় এবং শিপনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
গোলাগুলিতে শিপন, হোটেলের কর্মচারী ইয়াসিন (আলমনগর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে) এবং চরলাপাং গ্রামের নুর আলম (রশিদ মিয়ার ছেলে) গুলিবিদ্ধ হন।
পাল্টা হামলা ও লুটপাট
শিপনের ওপর হামলার খবর তার গ্রামে পৌঁছালে মনেক ডাকাতের অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা সশস্ত্র অবস্থায় থোল্লাকান্দি গ্রামে রিফাত বাহিনীর লোকজনের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এই দ্বিতীয় দফার সংঘাতে থোল্লাকান্দি গ্রামের এমরান মাস্টার (৩৮) নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় হামলাকারীরা কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর থেকে থোল্লাকান্দি ও নুরজাহানপুর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আহত চারজনকেই উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেছে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা দীর্ঘদিনের। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি শুধু আধিপত্যের লড়াই নয়, ডাকাতির অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জের ধরেও এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটতে পারে।”
তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে।















