রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ক্যামেরুনের অন্তত ১৬ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কূটনৈতিক নথির সত্যতা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র যাচাই করেছে।
ফাঁস হওয়া ওই নথিতে নিহতদের “সামরিক ঠিকাদার” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ক্যামেরুন সরকারের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধে তাদের নাগরিকদের সম্পৃক্ততার প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে এ বিষয়ে নীরব থাকার কারণে দেশটির সরকার সমালোচনার মুখে ছিল। তবে এখনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি।
একটি অনুসন্ধানী সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই যুদ্ধে প্রায় ৯৪ জন ক্যামেরুন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আফ্রিকার অন্তত ৩৬টি দেশের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে নিয়োগ পেয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের এই যুদ্ধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ক্যামেরুনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে সম্প্রতি একটি বিবৃতি প্রচার করা হয়, যেখানে নিহত ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের পরিবারের সদস্যদের জরুরি যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়। তবে সেখানে মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আগেই এক অভ্যন্তরীণ নথিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে সেনাসদস্যরা দেশ ছেড়ে ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
শুধু ক্যামেরুন নয়, আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশ এই ধরনের নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ঘানা জানিয়েছে, তাদের অন্তত ৫৫ জন নাগরিক এই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন এবং তারা রাশিয়াকে এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
কেনিয়াও জানিয়েছে, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগে শতাধিক নিয়োগ সংস্থা বন্ধ করা হয়েছে। দেশটির ১৬ জন নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৪৭ জন দেশে ফিরে এসেছেন।
এছাড়া জিম্বাবুয়ে জানিয়েছে, তাদের অন্তত ১৫ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকেই এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে আছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক প্রলোভন ও ভুয়া চাকরির প্রতিশ্রুতির কারণে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষ এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন, যা ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে।
















