যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই হামলার পর তেহরান কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, ইরান সম্পূর্ণভাবে চুক্তি মানা পর্যন্ত তাদের সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলে বজায় থাকবে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বুধবার তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz পুনরায় চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে এই নৌপথ বন্ধ থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় আবারও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারের বেশি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ৯৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে অনিশ্চয়তা স্পষ্টভাবে ফিরে এসেছে। বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত নন যে হরমুজ প্রণালী আদৌ স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে কি না। এর প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে সূচক কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির মূল কেন্দ্রবিন্দু থাকবে এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক হয় কি না। কারণ যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত ছিল নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।
তবে বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও খুব কম সংখ্যক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে, যা যুদ্ধের আগে প্রতিদিন চলাচল করা জাহাজের তুলনায় অনেক কম। ফলে জমে থাকা জাহাজের চাপ কাটাতে অন্তত ১০ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের নৌবাহিনী সতর্ক করেছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন খবর আসায় পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে যদি এই পথে চলাচলে অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে লেবানন যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়বে কি না, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। এর জবাবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলার দাবি করেছে।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আগামী শনিবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফা আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের। তবে এই আলোচনায় স্থায়ী সমাধান আসবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
















