নড়াইল সদর উপজেলায় পাওনা টাকা না পেয়ে বসতঘরের টিন ঘরের আসবাবপত্র ও খুটি বেড়া খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাওনাদার মো. মিকাইল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে গেলে ভুক্তভোগী জাফর শিকদার ও তার পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামের জাফর শিকদারের ছেলে জাহিদ শিকদার একই গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা ধার নেন। পরে পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে তিনি টাকা দিতে পারেন না। একপর্যায়ে টাকা পরিশোধ না করতে পেরে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। পরে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে পাওনাদাররা ক্ষিপ্ত হয়ে মিকাইল বিশ্বাস, ইয়াসিন বিশ্বাস, মিরাজ বিশ্বাস কয়জন মিলে জাহিদের বাড়িতে গিয়ে বসতঘরের চালার টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায়।
পরের দিন বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দ্বিতীয় দফায় গিয়ে রান্না ঘরের চালা, ও খুঁটি এবং বসতঘরের আসবারপত্র নিয়ে যায় তারা। ঘরের টিন ও আসবারপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় ঘরের ভিতর ঘুমিয়ে ছিলেন জাহিদের দাদী বৃদ্ধা খাদিজা বেগম (৮০) এসময় তিনি হামলাকারীদের পা জড়িয়ে ধরে আকুতি জানিয়ে ও কোনো কাজ হয়নি। বৃদ্ধা খাদিজা বেগম বলেন, তারা এসে ঘরের টিন খুলতে থাকে। পরে টিন খুলে ভ্যানে করে নিয়ে যায়। এসময় আমি লাঠি ভর দিয়ে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পে যায়। পুলিশকে ঘটনা খুলে বয়লে পুলিশ আমার কথা শুনে আসিনি। পুলিশ আসলে ওরা আমার ঘরটা ভাঙতে পারত না।
অভিযুক্ত পাওনাদার সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামের মিকাইল বিশ্বাস জানান, জাফর শিকদারের ছেলে জাহিদ শিকদার গ্রামের কয়জনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দার নেয়। পরবর্তীতে সে আর টাকা শোধ করেনি। পরে সে গা ঢাকা দেন জাহিদ শিকদার। মিকাইল আরও বলেন, জাহিদ শিকদার আমার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে তা আর ফেরত দেয়নি। এ ছাড়া তার কাছে আমি টাকা ও পাবো তাই ঘরের টিন খুলে বিক্রি করে পাওনা টাকা বুঝে নিছি।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.ওলি মিয়া বার্তা বাজারকে বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা খাদিজা বেগমের অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই বৃদ্ধা পুলিশ ক্যাম্পে গেছেন এবং পুলিশকে বলছে এমন কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
















