দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হচ্ছিল মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো মানুষের ঘুমের বড় ক্ষতি করছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয় এবং বাস্তবে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নীল আলো মানুষের শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণ চক্রে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে ঠিকই, তবে ফোন বা কম্পিউটার থেকে নির্গত আলো এতটা শক্তিশালী নয় যে তা ঘুমের বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ডিজিটাল পর্দার আলো সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে ঘুমাতে যেতে মাত্র কয়েক মিনিট দেরি করাতে পারে। অন্যদিকে সূর্যালোকের তুলনায় এসব যন্ত্র থেকে পাওয়া নীল আলোর পরিমাণ অত্যন্ত কম।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘুমের ক্ষেত্রে আসল বিষয় হলো সারাদিনে মোট কতটা আলো শরীর পাচ্ছে। সকালে পর্যাপ্ত আলো এবং রাতে তুলনামূলক কম আলো পাওয়া ঘুমের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষ এখন দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে কাটান, যেখানে আলো কম থাকে। এতে শরীর দিন ও রাতের পার্থক্য ঠিকভাবে বুঝতে পারে না, যা ঘুমের সমস্যার একটি বড় কারণ।
এছাড়া ঘুমানোর আগে ফোনে কী ধরনের বিষয়বস্তু দেখা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। উত্তেজনাপূর্ণ বা মনোযোগ ধরে রাখে এমন বিষয়বস্তু মানুষকে দীর্ঘ সময় জাগিয়ে রাখতে পারে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
গবেষকরা আরও বলেন, শুধু নীল আলো কমানোর জন্য ব্যবহৃত ফিল্টার বা বিশেষ চশমা খুব বেশি কার্যকর নয়। তবে এগুলো কখনো কখনো মানসিকভাবে ঘুমের প্রস্তুতির একটি সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ভালো ঘুমের জন্য সকালে বাইরে গিয়ে প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ করা, দিনে উজ্জ্বল পরিবেশে থাকা এবং রাতে ধীরে ধীরে আলো কমিয়ে আনা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
সব মিলিয়ে, ঘুমের সমস্যা শুধু প্রযুক্তির কারণে নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস ও জীবনযাপনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
















