ক্রমবর্ধমান লোকসান ও নানা সংকটের মুখে এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী ক্যাম্পবেল উইলসন নির্ধারিত সময়ের আগেই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন প্রধান নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তার মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও তিনি আগেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে নতুন প্রধান খুঁজে বের করতে একটি কমিটি গঠন করেছে।
সরকারি মালিকানা থেকে বেসরকারি খাতে যাওয়ার পর এয়ার ইন্ডিয়াকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে। তার নেতৃত্বে বিমান সংস্কার, সেবা উন্নয়ন এবং কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু হয়।
তবে এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিশেষ করে গত বছর একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত সমস্যাও সামনে আসে।
সাম্প্রতিক অর্থবছরে এয়ার ইন্ডিয়া এবং এর স্বল্পমূল্যের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ৯৮০০ কোটি রুপির লোকসান হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান প্রধান আগেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করার কাজ করছিলেন।
বিদায়ী বার্তায় তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আধুনিকায়ন, নতুন সেবা চালু এবং পরিচালন মান উন্নয়নে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বিমান খাত বর্তমানে বাড়তি ব্যয়, আন্তর্জাতিক রুটে বিঘ্ন, বিমান সরবরাহে দেরি এবং কঠোর নিয়ন্ত্রক নজরদারির মতো নানা চাপে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে এয়ার ইন্ডিয়ার নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
















